কাঠালিয়া প্রতিনিধিঃ বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দুরে বিষখালী নদীর তীর ঘেষে ৫০ একর জমি নিয়ে অবস্থিত ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র ছৈলার চর।
অতি সম্প্রতি এখানে সরকারের ব্যপক উন্নয়নে এক সময়ের অবহেলীত ছৈলার চর এখন পর্যটনকেন্দ্র ছৈলার নাম ধারন করেছে। নতুন এ রূপের সাথে সাথে জমে উঠছে এখানকার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে এখানে হাজার হাজার পর্যটক আসা-যাওয়া করে।
ছৈলারচরে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও পর্যটক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এখানে অনেকেই রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারি ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেছে। বর্তমানে এ পর্যটন এলাকায় ঘটছে বানিজ্যিক বিপ্লব। কে কার চেয়ে ভালো আধুনিক দোকান সাজিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে এমন প্রতিযোগিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে এখানকার ব্যবসায়ীদের মাঝে। ছৈলারচরকে আধুনিকায়ন করায় এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে এখানকার ও আশপাশে এলাকার শত শত বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পর্যটনের হাত ধরে বদলে যেতে পারে গোটা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির চেহারা।
বিজ্ঞজনের মতে, যথাযথ বিকাশের মাধ্যমে ছৈলারচর পর্যটনকেন্দ্র থেকে বছরে কোটি টাকা আয় করতে পারে বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যম-িত এ পর্যটনকেন্দ্র। সম্ভাবনাময় ছৈলারচর পর্যটন কেন্দ্রকে যথাযথ ভাবে তুলে ধরা গেলে এ পর্যটন কেন্দ্র দক্ষিণঞ্চলের অন্যতম পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক তৎপরতার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে এ পর্যটন এলাকায়। বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়ে নানা উদ্যোগ গ্রহনের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসার ধরন যাচাই করার জন্যে পরিদর্শনে আসছেন অনেক মানুষ।

এখানে পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে উপজেলা প্রসাশনের ৩ রুম বিশিষ্ট একটি ভিআইপি কটেজসহ আরও দু’টি নান্দনিক কটেজ। রয়েছে ডিসি লেক ও মুক্তিযোদ্ধা ইকোপার্ক। লেকের চারপাশ ঘিরে রয়েছে হাজারো রকমের প্রসাধনী ও খাবারের পশরা সাজিয়ে রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারি দোকান। ছৈলারচর পর্যটন কেন্দ্রকে টিকিয়ে রাখার মধ্যেই রয়েছে এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একমাত্র হাতিয়ার। এ পর্যটন এলাকায় স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায় সে প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে পরামর্শ ও সহায়তা করে যাচ্ছেন কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুফল চন্দ্র গোলদার ।

কাঠালিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুফল চন্দ্র গোলদার জানান, এ পর্যটন কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রকল্প তৈরি করে পরিকল্পনা ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্প এখন অনুমোদনের অপেক্ষায়। অনুমোদন হলে এখানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাড়বে, তেমনি পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশ একমাত্র পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে সমৃদ্ধির শিখরে আরোহণ করছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ সম্ভাবনা আরো উজ্জ্বল। ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানের অভাব নেই বাংলাদেশে। আমাদের দেশে পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঠিকমতো ও পরিকল্পিতভাবে করতে পারলে সুইজারল্যান্ড, পাতোয়া, ব্যাংকক-এর থেকে ভালো ট্যুরিজম এখানেও গড়ে উঠতে পারে।
দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার খোকন আহম্মেদ হীরা বলেন, পর্যটন বিকাশে অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং জিনিসপত্রের মান ও দামের সামঞ্জস্যতা এই তিনটি বিষয় খুব গুরুত্ব পূর্ণ। পর্যটনশিল্পের বিকাশে সরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগ, অধিদপ্তর ও বেসরকারী উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে একটি নীতিমালা গ্রহণ করলে খুব দ্রুত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে। ছৈলারচর পর্যটন কেন্দ্র একদিন বরিশালঞ্চলের মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস্য হতে পারে।











