কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় অধিকাংশ কলেজের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফলে চরম বিপর্যয় ও আশঙ্কাজনক চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। এতে তীব্র অসন্তোষ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি কঠোর সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্যের ভেরিফাইড ফেইজবুক পেজে দেওয়া বার্তা অনুযায়ী, কাঠালিয়া উপজেলার সিংহভাগ কলেজের ফলাফলই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। কাঠালিয়া উপজেলার পশ্চিম ছিটকী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন পাশ করেছে (পাসের হার ৪৮%)। তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সরকারি কলেজে ২২৪ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১১০ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১টি (পাসের হার ৪৯%)। আমুয়া শহীদ রাজা ডিগ্রি কলেজে ২৩১ জনের মধ্যে পাশ করেছে ১১৭ জন (পাসের হার ৫০.৬৫%)।
এই উপজেলায় তুলনামূলক ভালো ফলাফল করা মনস্মিতা মহিলা ডিগ্রি কলেজে ৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জন পাশ করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১টি (পাসের হার ৬২.১৬%)। প্রকাশিত এই নিম্নমুখী ফলাফলকে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি উল্লেখ করে এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল তাঁর ফেসবুক বার্তায় লেখেন, আমাদের সন্তানদের মেধা শিক্ষায় কেন এতটা পিছিয়ে পড়ছে, তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সময় এসেছে। শিক্ষার এই নিম্নমুখী মানের জন্য শিক্ষক মণ্ডলী, গভর্নিং বডি, ম্যানেজিং কমিটি এবং অভিভাবক সমাজ আমরা কেউই দায় এড়াতে পারি না। নিয়মিত ক্লাসের অভাব, নিবিড় তদারকির দুর্বলতা এবং দায়িত্ব পালনে শৈথিল্যই আমাদের শিক্ষার্থীদের এই বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
শিক্ষার পরিবেশ ও মান নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো অবহেলা বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে এই পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করতে হবে এবং শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও যেসব শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ সহ সাফল্য অর্জন করেছে, তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। কাঠালিয়া উপজেলার মনস্মিতা মহিলা ডিগ্রি কলেজ এলাকায় সেরা পারফরম্যান্স করায় ওই কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি যারা কৃতকার্য হতে পারেনি, তাদের ভেঙে না পড়ে নিজেদের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে পুনরায় নতুন উদ্যমে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।











