বরিশাল ব্যুরো:
সরকারী চাকুরিজীবি, হত্যা মামলার আসামী ও বিএনপি’র আমলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতণকারীও স্থান পেয়েছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা ও পৌর যুবলীগের কমিটিতে। বিতর্কিত এ কমিটি নিয়ে অসন্তোস প্রকাশ করে ফেসবুকে পোষ্ট করায় ইতিমধ্যে দুইজন ত্যাগী কর্মীকে কমিটি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। ফলে ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাইছেনা।
ঘোষিত কমিটিতে দেখা গেছে, গৌরনদী উপজেলা যুবলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে পূর্বের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বহাল রয়েছেন সৈয়দ মাহবুব আলম। কমিটির ৭নং সহসভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন এনামুল হক মিঠু। কমিটিতে যুগ্নসাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোঃ মনিরুজ্জামান মনিরের নাম রয়েছে। সহসম্পাদক পদে রয়েছেন মোঃ লিটন। এরমধ্যে সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম দীর্ঘদিন যাবত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। সহসভাপতি এনামুল হক মিঠু গৌরনদী পৌরসভায় উচ্চমান সহকারী পদে কর্মরত। যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির পৌরসভার বাজার পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। সহসম্পাদক লিটন পৌরসভার গাড়ি চালক। এছাড়াও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ব্যাপক নির্যাতনকারী তৎকালীণ বিএনপি’র ক্যাডার শাহ আলী বয়াতীকেও উপজেলা যুবলীগের সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
অপরদিকে পৌর যুবলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে ১নং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে স্থান পেয়েছে আশোকাঠী এলাকার সজিবুর রহমান জিয়া। যিনি উপজেলার বংকুরা গ্রামের এক বৃদ্ধাকে প্রকাশ্যে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা মামলার ৪নং আসামী। তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এছাড়াও জিয়ার আপন চাচাকেও রাখা হয়েছে উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি পদে। উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটিতে সভাপতির পদ পেয়েছেন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক পদে কর্মরত রাসেল হোসেন রাড়ী।
গৌরনদী উপজেলা ও পৌর যুবলীগের একটি সূত্রে জানা গেছে, কমিটিতে স্থান পাওয়া হত্যা মামলার আসামী ও সরকারী কর্মচারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ট হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ওই নেতার আশির্বাদপুষ্ট হওয়ায় গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে যুবলীগের কমিটিতে তাদের স্থান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বুলেটকে ইট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি দুর্ধর্ষ ছাত্রদল ক্যাডার নয়ন প্যাদাও এখন যুবলীগের নেতা বনে গেছেন। দলের দুর্দিনে যুবলীগের পদ পাওয়া সরকারী কর্মচারী ও সদ্য যোগদানকারীদের খুজে পাওয়া যাবেনা বলেও তারা উল্লেখ করেন।
সরকারী চাকরী করেও উপজেলা যুবলীগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়া সৈয়দ মাহবুব আলম বলেন, আমি কমিটিতে থাকার জন্য কোন প্রকার লবিং বা তদবির করিনি। তারপরও আমাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। পৌরসভার কর্মচারী ও উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতির পদে দায়িত্বে থাকা এনামুল হক মিঠুর মুঠোফোনে কল দেয়ার পর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলা শুরু করলে সংযোগ কেটে দেন। এরপর আর তাকে (মিঠু) ফোনে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও সহসম্পাদক লিটনের ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া যায়নি।
যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, উপজেলা যুবলীগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। কমিটিতে আরো ৭/৮জন আছে যারা চাকুরী করে আর আমরাতো স্বায়ত্তশাষিত। আর প্রায় পৌরসভার কর্মচারীরা রাজনীতির সাথে জড়িত। যেমন বাকেরগঞ্জ পৌরসভার বাজার পরিদর্শক ওই খানের ছাত্রলীগের সভাপতি। চাকুরী করে দলীয় পদে থাকা যায় কিনা জানতে চাইলে বিষয়টি তার জানা নেই বলে উল্লেখ করেন।
বরিশাল জেলা যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, সরকারি চাকুরীজীবি যদি কমিটিতে থাকে তা যদি প্রমান হয় তাহলে তারা থাকতে পারবেনা। আমরা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও উল্লেখ যোগ্য পদ নির্বাচিত করে দিয়েছিলাম। বাকি পদগুলো তারা নির্বাচিত করার পর কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গৌরনদী যেহেতু আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ভাইর এলাকা তাই অতটা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তদারকি করতে যাইনি। এরপরও যদি কেউ অভিযোগ দেয় তাহলে কমিটি থেকে সরকারি চাকুরিজীবিদের বহিস্কার করা হবে।
গৌরনদী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, এনামুল হক মিঠু উচ্চমান সহকারি ও মনিরুজ্জামান মনির বাজার পরিদর্শক হিসেবে পৌরসভায় স্থায়ী ভাবে কর্মরত আছেন। এছাড়া মিঠু সাংবাদিকতাও করেন। তারা যে রাজনৈতিক দলের কমিটিতে আছে এবিষয়ে কেউ লিখিত দিলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কোন সরকারী কর্মচারী রাজনীতির সাথে সমৃক্ত থাকতে পারবেনা এবং কমিটিতেও থাকতে পারবেনা। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।










