ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চে আগুন লেগে দদ্ধ হয়ে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০০ জনেরও বেশি যাত্রী দগ্ধ হয়েছে। এদেরকে ঝালকাঠি ও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়ার পথে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর দপদপিয়া (দেউরী নামক) এলাকায় আসলে গতরাত ৩টার দিকে ইঞ্জিন কক্ষের পাশে ক্যান্টিনেরে গ্যাস স্যালেন্ডার আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহুর্তেই ইঞ্চিন রুমের তৈলের ব্যারেলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। লঞ্চের পর্দায় আগুন ধরে দোতালায় চায়ের দোকানের গ্যাস সিলিন্ডিার বিষ্ফোরণ হয়। এ ভাবে পুরো লঞ্চে অল্প সময়ের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ডেকে থাকা অধিকাংশ যাত্রী লাফ দিয়ে নদীতে পরে এবং কেবিনে থাকা যাত্রীরা লাফ দিয়ে পানিতে ঝাপ দেয়।
লঞ্চটি সদর উপজেলার দিয়াকুল এলাকায় গিয়ে নদীর তীরে নোঙর করে। খবর পেয়ে ঝালকাঠির ফায়ার সার্ভিসেরকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গদ্ধ যাত্রীদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করছেন।
লঞ্চের যাত্রী সোলাইমান আকন বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দে লঞ্চে আগুন ধরে যায়। লঞ্চের পেছনের অংশ থেকে তৃতীয় তলার সামনে পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।’
সাইদুল ইসলাম নামের আরেক যাত্রী জানান, প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই লঞ্চ থেকে নদীতে লাফ দেন।
এই লঞ্চে ৫ শতাধিক যাত্রী ছিল বলে জানান কেবিন বয় ইয়াসিন। তিনি বলেন, ‘ওপরে থাকা বেশির ভাগ যাত্রী নদীতে লাফ দিয়েছে। যারা ঘুমিয়ে ছিল তারা সবাই মারা গেছে।’
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানান, ঢাকা থেকে ৫ শতাধিক যাত্রী নিয়ে বরগুনা যাচ্ছিল এমভি অভিযান-১০ নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ। রাতে ইঞ্জিন কক্ষ থেকে আগুন লেগে দদ্ধ হয়ে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১০জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৫০০ জনেরও ৬০ জনেরও বেশি যাত্রী দগ্ধ হয়।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈনুল হক জানান, ভোর ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। যাত্রীদের উদ্ধারে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন। দগ্ধ যাত্রীদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. আমির হোসেন বলেন, ২০০ শতাধিক বেশী যাত্রী আহত হয়েছে। গুরতর আহতদের প্রাথমিক চিকি’সা শেষে বরিশাল শেবাচিম হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল কর্তিপক্ষ জানিয়েছেন, রাত ৪টা থেকে হাসপাতালে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আহত প্রায় শতাধিক যাত্রী ভর্তি হয়েছে। বেড সংঙ্কটের কারনে তাদের হাসপাতালের ফ্লোরে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।











