অনলাইন ডেস্কঃ জাতীয় পার্টি (জাপা) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার চায় না। ১৯ জুন রবিবার ইভিএম যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আয়োজিত বৈঠকে অংশ নিয়ে দলটি এমন অবস্থানের কথা জানায়।
জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, সকালে প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যেভাবে নির্বাচন ব্যবস্থা আছে, সেটার পক্ষেই তারা। ইভিএম ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। বৈঠকে ইসির কাছেও এ মতামত আমরা তুলে ধরেছি।
জাপা মহাসচিব বলেন, আগামী নির্বাচনে পরীক্ষামূলক হতে পারে। কিন্তু সারাদেশে ৩০০ আসনে ইভিএমে হলে এটা হ্যাপাজার্ড হয়ে যাবে। ইভিএমে ভোট দেওয়ার মতো মানুষের প্রস্তুতি নেই। মানুষ ভোট দিতে চায়। কিন্তু মেশিনের বিষয়ে আমাদের ‘রং’ একটা ধারণা। আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলতে চাই- আগামী নির্বাচন ইভিএমে হোক তা আমরা চাই না।
সিইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, নির্বাচন করবো আমি, আমরা। আপনার দায়িত্ব কতটুকু নির্বাচন সুষ্ঠু করা যায়, ভালো নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেন, তারা বেশিরভাগ যা বলে তা জনগণের প্রতিফলন হতে পারে। …দলের পক্ষ বলবো- এটা ইভিএমের দোষ বলবো না, ইভিএম সম্পর্কে আমাদের ধারণাও খুব একটা ভালো না। দেশের মানুষ ইভিএমে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত না।
স্বাগত বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ইভিএম নিয়ে আমরা এখনও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেই নি। … আপনারা জানেন কিছুদিন আগেও আমরা ইভিএম এর মাধ্যমে নির্বাচন করেছি। তারপরও রাজনৈতিক মহলে এবং পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে যেটা আমরা জানতে পেরেছি যে, ইভিএম নিয়ে ঐক্যমত নেই। এমন পরিস্থিতিতেই সবার মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ইভিএমটা যেহেতু আমরা ব্যবহার করছি। আমাদের উদ্দেশ্য ইভিএম সম্পর্কে আপনাদেরকে ধারণা দেওয়া। কিন্তু আপনাদের মতামত কি হবে, সেটা আপনাদের স্বাধীন মতামত হবে। আমরা কোনো মতামত কারো উপর চাপিয়ে দিতে পারি না, চাপিয়ে দেবো না, সেই ধরণের কোনো ইচ্ছাও আমাদের নেই।
দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা বৈঠক শেষে সিইসি বলেন, যে কোনো প্রস্তাবই কন্সট্রাকটিভ। আলোচনা মূল্য দিয়ে বিবেচনা করবো।.. ইভিএমের ব্যাপারে অনেকের বক্তব্য ইতিবাচক, আবার অনেকে বলেছেন ইভিএম ব্যবহার করা সমীচীন হবে না। কিন্তু ইভিএমের অনেক বিষয় উনাদের অজানা ছিল, সেখানে আমাদের বিশেষজ্ঞরা বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলেছেন। সিইসি বলেন, আপনাদের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করাতে পারেন, আমরা স্বচ্ছ থাকতে চাই। এখানে এ জটিলতা আছে, দুর্নীতি আছে, অসততা আছে-আজও আপনারা দেখেন, পরেও এসে দেখতে পারেন।
ইভিএম যাচাই করার জন্য ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করার জন্য ডেকেছে ইসি। এরই অংশ হিসেবে রবিবার ১৩টি দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। দলগুলো হলো- জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় পার্টি-জেপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএম ও বাংলাদেশ কংগ্রেস। এগুলোর মধ্যে আন্দারিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, ড. কামাল হোসের গণফোরাম ও কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ বৈঠকে আসেনি।
সূত্রঃ বাংলা ভিশন।












