জনতার খবর ডেস্কঃ রাজধানীর আজিমপুরে বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার পথে দেওয়াল চাপা পড়ে জিহাদ (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। গত মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সকাল সোয়া আটটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৯টায় মৃত ঘোষণা করেন। শিশু জিহাদ নিহতের ঘটনায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) পক্ষে বৃহস্পতিবার ব্যারিস্টার আবদুল হালিম এ নোটিশ পাঠান।
স্বরাষ্ট্র সচিব, গণপূর্ত সচিব, গণপূর্ত ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সিইওসহ ৯ জনকে এ নোটিশ পাঠানো হয়। সাত দিনের মধ্যে নোটিশগ্রহীতারা এ বিষয়ে জবাব না দিলে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলেও নোটিশে বলা হয়েছে। এই ঘটনার পর নিহত জিহাদের ভাই গুলজারকে চাকরি দিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ। পিলখানা গণপূর্ত উপ বিভাগে অফিস সহকারী পদে তাকে চাকরি দেওয়া হয়। এছাড়া দেয়াল চাপায় আহত জিহাদের বাবা নাজিম উদ্দিনের চিকিৎসার খরচ বাবদ এক লাখ টাকা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটির অঞ্চল তিন কর্তৃপক্ষ।
জিহাদের বাবা নাজিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসুস্থ হয়ে পড়ায় কীভাবে পরিবার চালাব তা নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলাম। গণপূর্ত বিভাগ আমার ছেলেকে চাকরিটা দিয়েছে। আমার চিকিৎসা করার জন্য এক লাখ টাকাও পেয়েছি। ছেলের চাকরির বিষয়ে নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার বড় ছেলে গুলজার ভ্যান চালাতো, মালিকের ভ্যান ভাড়ায় চালানোর কারণে প্রতিদিন আয়ের অর্ধেকের বেশি মালিককে দিয়ে দিতে হতো। এখন তার চাকরিটা হওয়ায় সে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারবে।’
পিলখানা গণপূর্ত উপ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ কায়সার কবির বলেন, ‘গুলজারকে আমাদের পিলখানা উপ বিভাগে অফিস সহকারী পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি ছেলেটার পরিবার যেন একটু হলেও শোকটা ভুলতে পারে। যদিও ভাই হারানো কিংবা ছেলে হারানোর শোকের তুলনায় একটা চাকরি সামান্য বিষয়। ভবিষ্যতেও আমরা পরিবারটির খোঁজ রাখতে চেষ্টা করবো।’












