কাপ্তাই প্রতিনিধিঃ দারিদ্রকে পিছনে ফেলে অটোরিকশা চালকের মেয়ে আয়শা এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। আয়েশা ও মা-বাবার ইচ্ছে ডাক্তার হওয়া। কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ড ব্যাঙছড়ি পাড়ায় আয়েশা ছিদ্দিকা বসবাস করে। বাবা নেহাত দরিদ্র।একটি পুরাতন অটোরিক্সা চালক মো. শাহাজাহান। সাদামাটা লোকবলেই চলে। তার বড় মেয়ে আয়েশা ছিদ্দিকা এবার নৌ বাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ হতে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে হতে জিপিএ- ৫ অর্জন করেছে।
দারিদ্র্যকে জয় করে অদম্য মনোবল নিয়ে এইচএসসিতে সফলতা অর্জনকারী আয়েশা ছিদ্দিকার সফলতায় উচ্ছ্বসিত তাঁর কলেজের শিক্ষক এবং পরিবারের সদস্যরা। আয়েশার বাবা মো. শাহাজাহান জানান, আমি অটোরিক্সা চালিয়ে সংসার ও ছেলে মেয়েদের পড়া লেখা কড়াই। গত বছর করোনার ফলে তেমন ভালো আয় ছিলনা। বহু কষ্ট করেছি সংসার ও ছেলে মেয়েদের লেখা পড়া করাতে।আর এক ছেলে মো. ইয়াসিন আরাফাত দশম শ্রেণীতে অধ্যায়রত। স্ত্রী সহ ৪ জনের সংসার আর সন্তানদের লেখাপড়া, সব মিলে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। তাদের ভালো খাবার, ভালো পোশাকসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু দিতে পারি নাই। এরপরেও আমি হাঁড়ভাঙা পরিশ্রম করেছি। আমার পরিশ্রমের ফল মেয়ে অর্জন করেছে। আমি চাই মেয়ে ডাক্তার হয়ে আমার স্বপ্নকে পূরণ করবে।
আয়েশা ছিদ্দিকা জানান, এসএসসিতে জিপিএ ৪.৮৯ (এ) পাবার পর আমার মনে জেদ চাপে যে করে হউক এইচএসসিতে জিপিএ -৫ পেতে হবে। অনেক সময় বই কিনতে পারি নাই। কিন্তু ক্লাসে কলেজ শিক্ষকরা যেইভাবে পাঠদান করাতে তাতে আমি অনেক কিছু শিখেছি। বাসায় এসে টুকটাক মাকে সংসারের কাজে সহযোগিতা করে মধ্যরাত পর্যন্ত পড়েছি। ক্লাসের বাহিরে কলেজ শিক্ষক কামরুল, আমিনুল স্যারা আমাকে বাড়তি অনেক কিছু পড়াতেন। কিন্ত স্যাররা বিনিময়ে আমার থেকে কোন পারিশ্রমিক নেন নাই। আমি এ ফলাফলের জন্য কলেজ অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ স্যারসহ সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আয়েশা জানান, ভবিষ্যতে সে একজন ডাক্তার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবে।










