জনতার খবর ডেস্কঃ স্কুল ড্রেস পরিহিত এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলেকে পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন বাবা। তার দুই পা নেই তো কী, ছেলের হাত আঁকড়ে ধরে রাবার মোড়ানো হাঁটুতে ভর করেই নেমে পড়েন রাস্তায়। নিজে গাড়ির পাশে থেকে নিরাপদে সন্তানকে রাস্তা পার করেন। ১৪ নভেম্বর রবিবার সকাল থেকে ফেসবুকের টাইমলাইনে ঘুরছে ছবিটি। এম ছবি নেট দুনিয়া ছড়িয়ে পড়লে, ভালোবাসা ও বাবার দায়িত্ববোধ দুটিই মুগ্ধ করে সবাইকে।
জানা গেছে, ছেলে সালেহ আহমেদ ফাহাদকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছিলেন বাবা ওমর ফারুক। আর তখনই কেউ ছবিটি তুলে ফেসবুকের ফেসবুকের টাইমলাইনে ছাড়েন। আর তা মুহূতেই ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটিতে দেখা যায়, বাবা দুই পায়ের সমস্যার কারণে হাঁটুতে ভর করে তার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলেকে নিয়ে হাঁটছেন। যাত্রীবাহী বাসকে হাত তুলে দাঁড় করিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে রাস্তা পার করিয়ে দিচ্ছেন ছেলেকে।
রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে ফাহাদ। পরীক্ষা চলছে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টমেন্ট কলেজ কেন্দ্রে। ভাইরাল হওয়া ছবিতে ফাহাদের সঙ্গে তার বাবাই ছিলেন, এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বনানী বিদ্যানিকেতনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রিয়াংকা হালদার শিখা। তিনি বলেন, বাবা অনেক কষ্ট করে ফাহাদকে পড়াচ্ছেন। আমরা প্রতিষ্ঠান থেকেও সহায়তা দিয়েছি। তার কাছ থেকে কোনো বেতন বা ফি নেওয়া হতো না।
ফাহাদের স্কুলের শ্রেণিশিক্ষকদের একজন মো. কবির আহমেদ জানান, পরিবারটি অসহায়। মাধ্যমিকের ফরম পূরণ ফি ছিল চার হাজার টাকা। ফাহাদের বাবা দুই হাজার টাকা জোগাড় করতে সক্ষম হন। তখন মো. কবির আহমেদ নিজে থেকে আরো এক হাজার টাকা দিয়ে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করেন। তিনি আরো জানান, ফাহাদের বড় বোন বনানী বিদ্যানিকেতন থেকেই মাধ্যমিক পাস করে গেছে। বাবা ওমর ফারুক পিকআপ ভ্যান ভাড়া দিয়ে সংসার চালাতেন। করোনার দুর্যোগকাল গাড়িটি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। বোন ফারজানা বিশেষ ছাড়ে রাজধানীর ক্যামব্রিয়ান কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছে। হাতের তৈরি পোশাক বিক্রি করে ফারজানা অসহায় বাবার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।