ঢাকা আশুলিয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির সিঁড়ির নিচে থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর নাম রবিউল ইসলাম (১০)। সে স্থানীয় কাশেমিয়া মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। রোববার দুপুরে আশুলিয়ার দুর্গাপুর এলাকার মুনমুনের ভাড়া বাড়ির সিঁড়ির নিচ থেকে রবিউলের লাশ উদ্ধার করা হয়।
রবিউলের বাবা সুমন হোসেন জানান, সে কাঠগড়া এলাকায় আল আমিন শেখের বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থেকে অটোরিকশা চালান এবং তার স্ত্রী পোশাক কাখানায় চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার সকালে রবিউলের বাবা অটোরিকশা চালাতে এবং তার মা পোশাক কারখানায় কাজে যান। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে ছেলেকে বাসায় না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারেন, রবিউল পাশের বাসার কলিম উদ্দিন মাঝির বাড়িতে সাড়ে ১১টার দিকে গিয়েছিল।
ওই সময় তাদের বাড়ির মালিক আল আমিন শেখ ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কাছে রবিউলের ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা জানান, রবিউল কোথায় গেছে তা তারা জানেন না। পরে শুক্রবার আশুলিয়া থানায় রবিউলের বাবা একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, বাড়িওয়ালা আল আমিনের কাছে তারা ২০ হাজার টাকা পান। সেই টাকা ফেরত চাইলে আল আমিন বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দিতেন। এরই জেরে আল আমিন তার ছেলে রবিউলকে আটক করে রেখেছে। এছাড়া তাদের কোনো শত্রু নাই। তাই নিখোঁজের তিন দিন পর পাশের বাসার সিঁড়ির নিচে গন্ধ পেয়ে ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রোববার সকালে আকতার হোসেন নামে এক ভাড়াটিয়া সিঁড়ির নিচ থেকে গন্ধ পেয়ে লোকজনকে খবর দিলে সেখানে বস্তাভর্তি অবস্থায় রবিউলের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরে ট্রিপল নাইনে ফোন করে বিষয়টি পুলিশে জানানো হয়।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার এসআই আল মামুন কবির বলেন, পুলিশ সিঁড়ির নিচ থেকে অর্ধগলিত একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে। পরে পরিবারের মাধ্যমে লাশটি রবিউল নামে এক শিশুর বলে নিশ্চিত হয়েছে। শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গোপন করতে না পেরে বস্তায় পেঁচিয়ে সিঁড়ির নিচে ফেলে রেখেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে।












