বরিশাল প্রতিনিধিঃ
বেকার সমস্যা দূর করতে স্বল্প পূঁজিতে চার বন্ধু মিলে শুরু করেছিলেন মাশরুম চাষ। এজন্য তারা প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেছিলেন। মাত্র একবছরের মধ্যে বাজারজাত করণের মাধ্যমে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন ওরা চারজন।
ঘটনাটি জেলার বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের। ওই চারবন্ধু মিলে বেকার সমস্যা দূর করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সৃষ্টির জন্য স্বল্প পূঁজিতে মাশরুম চাষ করার জন্য ‘সাভার মাশরুম উন্নয়ন সেন্টার’ থেকে ২০২১ সালে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ওইবছরই তারা বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের টেক্সটাইল সড়কে গড়ে তোলেন সাউথ বেঙ্গল মাশরুম সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তাদের চাষ করা মাশরুম বাজারজাত করণের মাধ্যমে সফলতা আসতে শুরু করেছে।
মাশরুম চাষের পাশাপাশি ওই তরুণ উদ্যোক্তারা বীজ উৎপাদন শুরু করেছেন। আগ্রহ আর অদম্য ইচ্ছা শক্তির জোড়ে মাশরুম চাষ শুরু করে মাত্র একবছরের মধ্যেই সফলতার মুখ দেখা ওই চারজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হলেন, নাজমুল হাসান নবীন, কাওসার হোসেন ছাহের, নাঈম হাওলাদার ও খালেদা আক্তার জিনিয়া।
নাজমুল হাসান নবীন বলেন, একসময় বেকার সমস্যা দূর করতে আমরা চার বন্ধু চরম হতাশাগ্রস্থ হয়ে পরেছিলাম। এরইমধ্যে চাকরির পেছনে না ঘুরে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উক্তিটি আমাদের চার বন্ধুর মাঝে চরম উৎসাহ যোগায়। প্রধানমন্ত্রীর উক্তিটি সাদরে গ্রহণ করে আমরা চার বন্ধু উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখি। তারই ধারাবাহিতকায় স্বল্পপূঁজিতে আমরা মাশরুম চাষ করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সাভার মাশরুম উন্নয়ন সেন্টার থেকে ২০২১ সালে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। ওইবছরেই আমার মাশরুম চাষ শুরু করি। তিনি আরও বলেন, শুরুতে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে বীজ ক্রয় করে মাশরুম চাষ করলেও বর্তমানে আমরা নিজেরাই বীজ তৈরি করে চাষের পাশাপাশি বিক্রি করা শুরু করেছি। বর্তমানে মাশরুমের পাশাপাশি বীজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে মাশরুম চাষের পরিধি আরো বৃদ্ধি করে বেকার সমস্যা দূর করার পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
অপর উদ্যোক্তা কাওসার হোসেন ছাহের বলেন, পুষ্টিগুনে ভরপুর মাশরুম মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারি। বর্তমানে প্রতিকেজি কাচা মাশরুম তিনশ’ টাকা এবং প্রতিকেজি পাউডার মাশরুম তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়। তিনি আরও বলেন, অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় আমাদের সাউথ বেঙ্গল মাশরুম সেন্টার পরিদর্শন করে অনেক বেকার যুবকরা মাশরুম চাষের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
উদ্যোক্তা নাঈম হাওলাদার ও খালেদা আক্তার জিনিয়া বলেন, আমাদের সাউথ বেঙ্গল মাশরুম সেন্টারে উৎপাদিত মাশরুম বরিশালের বিভিন্ন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, সুপারসপ ও বিভিন্ন হোটেলসহ পাইকারদের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্নস্থানে বিক্রি করা হয়।
পুষ্টিগুনে ভরপুর মাশরুম দিয়ে তৈরি মুখরোচক খাবার সর্বত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দাবি করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ সুনীতি কুমার সাহা বলেন, চার বন্ধু উদ্যোগে বাকেরগঞ্জে এই প্রথম সাউথ বেঙ্গল মাশরুম সেন্টারের মাধ্যমে মাশরুম চাষ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো যদি কেউ মাশরুম চাষে আগ্রহী হয় তাহলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শসহ সবধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।










