বরগুনা প্রতিনিধিঃ
বরগুনার বামনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণেলয়ের বরাদ্দ দেওয়া গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের ৯০ লাখ টাকা ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) ৩০০ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ভৌতিক প্রকল্প তৈরি করে এসব চাল ও অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
আজ মঙ্গলবার সকালে বামনা প্রেস ক্লাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে এসব প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করেন বামনা সদর ইউপি চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুজ্জামান সগির।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার, রুমী খানম, বুকাবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সবুজ, ডৌয়াতলা ইউটি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ চার ইউনিয়নের অন্য জনপ্রতিনিধিরা।
জানা গেছে, বরগুনার বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অন্তরা হালদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মচারী মো. মাফুজুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিবৃন্দ ভৌতিক প্রকল্প বানিয়ে কোনো কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বুকাবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সবুজ বলেন, ‘টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। কাজেই উপজেলা চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে এসব লুটপাট হয়েছে, এটা আমরা মনে করি না।
জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২০২২-২৩ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় বামনা উপজেলায় বরাদ্দকৃত ৩০০ টন চাল ৩০ জুন উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। ১০০ টন করে বরাদ্দ দেওয়া ওই প্রকল্পগুলো হলো রতনশীলের বাসা থেকে আজিজ ডাক্তার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ মাটি দ্বারা ভরাট মোট বরাদ্দ, এলজিইডির রাস্তা থেকে শুরু করে হিন্দুপাড়া হয়ে দফাদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা সংস্কার ও খলিল মুন্সী বাড়ি থেকে রিয়াজ মুন্সী বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মাটি দ্বারা নির্মাণ। এই প্রকল্পগুলোর কোনো ঠিকানা নেই। কোন এলাকায় তাও জানা যায়নি।
নাম দেখে প্রকল্প অনুসন্ধানে গিয়ে কোথাও এর কোনো অস্তিত্ব মেলেনি।
এ প্রকল্প তিনটির সভাপতি হলেন বামনা সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, ডৌয়াতলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জাহানারা বেগম ও উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার।
এ ব্যাপারে আলতাফ হোসেন হাওলাদার ও জাহানারা বেগম জানান, তাদের উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ও অফিসের কর্মচারী একটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলেন। তারা স্বাক্ষর করেন। তারা জানতেন না তাদের ব্যবহার করে এই লুটপাট করা হয়েছে।
আরো জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দেওয়া গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে ৪০টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এসব প্রকল্পের কোনো কাজই হয়নি।
এ ব্যাপারে বামনা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বরাদ্দটা আমরা পেয়েছি জুনের ১৯ তারিখ। তাই বরাদ্দ যাতে ফেরত না যায় এ জন্য আমরা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ পে-অর্ডার করেছি। আমরা কেউ এই অর্থ আত্মসাৎ করিনি।’
ভৌতিক প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব প্রকল্প মন্ত্রণালয় থেকে পাস হয়েছে। প্রকল্পগুলো উপজেলার কোথায় তা আমরা জানি না। এসব বিশেষ বরাদ্দে উপজেলার যে কাউকেই প্রকল্প কমিটির সভাপতি করা যায়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অন্তরা হালদার বলেন, ‘জুনের শেষ সময়ে বরাদ্দটা পেয়েছি। ২৫ তারিখ জুন ক্লোজিং থাকায় টাকাটা উত্তোলন করে রেখে দেওয়া হয়েছে। পরে কাজ হলে টাকাটা পরিশোধ করে দেওয়া হবে।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘বিশেষ বরাদ্দ এসেছে, আমি চেয়ারম্যান হিসেবে কিছুই জানি না।’
বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন বলেন, ‘বরাদ্দের খবর পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করি। যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা বামনা উপজেলায় খরচ করার জায়গা নেই। ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে এই টাকাগুলো তুলে আত্মসাৎ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।’










