চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামে নালায় পড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সেহেরীন মাহমুদ সাদিয়ার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলের প্রায় ৩০ ফুট দূরে ৭০ ফুট গভীর থেকে নালায় জমে থাকা আবর্জনা সরিয়ে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। বুধবার নিহত সাদিয়ার পরিবারকে সহমর্মিতা জানাতে বাসায় যান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এবং চসিকের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। তারা ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।অন্যদিকে সাদিয়ার মৃত্যুর এ ঘটনায় কারও দায়িত্বহীনতা থেকে থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ।
চট্টগ্রামে যে স্থানে নালায় পড়ে সাদিয়ার মৃত্যু হয়েছে আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডের নালার সেই স্থানটি বাঁশ দিয়ে ঘেরাও করে দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। বুধবার করপোরেশনের লোকজন স্লাবহীন নালার চারপাশে বাঁশ দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে।
চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল কালাম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, যে স্থানে সাদিয়া নালায় পড়ে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডে স্লাবহীন নালার সেই স্থানটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশেন। কোনো পথচারী যাতে আর দুর্ঘটনায় না পড়ে সেজন্যই এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার করপোরেশনের লোকজন এ নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে বলে জানান তিনি।
নিহত সাদিয়া’র পরিবারকে সহমর্মিতা জানিয়ে চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে আমি মর্মাহত ও ব্যথিত, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এ ধরনের ঘটনার দায় আমিও এড়াতে পারি না। আগামীতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় এবং কোনো মায়ের কোল যাতে খালি না হয় সেই ব্যাপারে স্ব স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকারীদের সচেতন এবং সতর্ক থাকার আহবান জানান। মেয়র শোকসন্তপ্ত পরিবারে প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কাউন্সিলর মো. ইলিয়াস, মো. শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম।
এর আগে বেলা ১১টায় সাদিয়ার বাসায় যান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক ও নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। সুজন সমবেদনা জানাতে সেহেরীন মাহবুব সাদিয়ার বাসায় গেলে তার স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় সুজন নিজেও অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন এবং এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
সুজন বলেন, সাদিয়ার মতো সন্তান যে কোনো পিতা-মাতার জন্য একটি স্বপ্নের বীজের মতো। কিন্তু সে স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে নিদারুণ গাফিলতি এবং কর্তব্য অবহেলায়। একটি রাষ্ট্রে একজন শিক্ষার্থী হাঁটতে গিয়ে নালায় পড়ে তলিয়ে যাবে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরের দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়- সাদিয়ার মৃত্যুর পেছনে কারও দায়িত্বহীনতা থেকে থাকলে সেটা দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। নগরীর সব সড়কে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের চলাচলে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও মরণফাঁদখ্যাত নগরীর নালাসমূহ মেরামত করা না হলে, কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।










