ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত শিশু রানা হত্যা মামলায় ১২ বছর পরে রায় প্রদান করেছে। হত্যায় সহযোগীতা করার দায়ে প্রতিবেশী পরিবারের স্বামী মন্টু খাঁ (৫৮) ও স্ত্রী নাজমা বেগম (৪৪) প্রতেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন। বৃহস্পতিবার বৈকালিক পর্বে এই আদালতের বিচারক মোঃ মাসুদুর রহমান আসামীদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষনা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের বাড়ি ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি গ্রামে।
২০১০ সালের ২১ মার্চ হাইলাকাঠি গ্রামের সিদ্দিক হাওলাদারের শিশুপুত্র রানা (৮) ও আসামীদের শিশু পুত্র মিরাজ (৮) বছরসহ সমবয়সী কয়েকজন একই গ্রামের ফেলু পাটিকরের বাড়িতে টিভি দেখতেছিল। এই সময় মিরাজ ও রানাসহ অন্য শিশুরা দুষ্টামি করায় বাড়ির মালিক বিরক্ত হয়ে টিভি বন্ধ করে শিশুদেরকে বের করে দেয়। এ নিয়ে মিরাজ ও রানার মধ্যে পরস্পরকে দোষারূপ করে ঝগড়া বাধে। এসময় মন্টু খাঁ এর বাড়িতে স্বামী স্ত্রী দু’জনে প্রতিবেশি সিদ্দিক হাওলাদারের পুত্র রানাকে ধরে রাখে এবং উত্তেজিত মিরাজ রানার পেটে কেচি ঢুকিয়ে দেয়। ৯দিন পর ৩০ মার্চ ২০১০ তারিখ রানার মৃত হয়।
এই ঘটনায় তার পিতা সিদ্দিক হাওলাদার বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় মামলা দায়ের করে। রাজাপুর থানার এস আই আব্দর রব আপন ২০১০ সালের ২২জুন আসামীদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করে। শিশু হওয়ায় মিরাজের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা হলে নাবালগ হওয়ায় আদালত মিরাজকে খালাস প্রদান করে এবং তার পিতা ও মাতা মন্টু খাঁ ও স্ত্রী নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে সেসন মামলা চলমান ছিল। আদালত ১০জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে। সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত পিপি আ স ম মোস্তাফিজুর রহমান ও আসামীদের পক্ষে মুসিকুর রহমান মামলা পরিচালনা করেন।










