জনতার খবর ডেস্কঃ ঘর পাবার পর মানুষের জীবন বদলে যায়, পাল্টে যায় জীবনের চলাচল। আর তাইতো কোন মানুষ যেন ঘরহীন না থাকে সেই অটুট পদক্ষেপে এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লক্ষ্য যেন একটাই, কোন মানুষ যেনো ছিন্নমূল না থাকে, যেন বেঁচে থাকতে পারে তাদের আপন ঠিকানায়।
২১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ভূমিহীন-গৃহহীন ২৬ হাজার ২২৯টি পরিবারকে পাঁচটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ঘর হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি উপকারভোগীদের কাছে ঘরগুলো হস্তান্তর করেন। এর মাধ্যমে পঞ্চগড় ও মাগুরা জেলার সব উপজেলাসহ দেশের ৫২টি উপজেলা ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এরমধ্যে পঞ্চগড়ে পাঁচটি উপজেলায় এক হাজার ৪১৩টি এবং মাগুরা চারটি উপজেলায় ৯৬টি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়ণ মানুষের ঠিকানা। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, আর সেই বাংলাদেশে কোন মানুষ ঠিকানাবিহীন থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষের জীবন যেন সুন্দর হয় তারই প্রথম উদ্যোগ নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু, বলেন তিনি।
একইভাবে গোটা বাংলাদেশ গৃহহীনমুক্ত হবে, আশা প্রধানমন্ত্রীর। এজন্য, গৃহহীনদের খুঁজে বের করতে দলীয় নেতাকর্মীসহ সবার প্রতি আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি ঘর নয় সবার জন্য ভবিষ্যৎ এবং ঠিকানা।

প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হচ্ছে মানুষ, ঘরহীন আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে মানুষ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘর রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। কারো কাছে হাত পেতে নয়, মাথা উুঁচু করে দাঁড়াবার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, কোন মানুষই বেকার থাকবে না। এছাড়াও, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ছিলো- ‘একটি মানুষও গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না’। আর তারই ধারাবাহিকতাই প্রথম পর্যায়ে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি জমির মালিকানাসহ ৬৩ হাজার ৯৯৯টি ঘর হস্তান্তর করা হয় ঘরহীনদের মাঝে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০ জুন, জমির মালিকানাসহ ৫৩ হাজার ৩৩০টি ঘর হস্তান্তর করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্মাণ করা একক ঘরের সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি। চলমান তৃতীয় পর্যায়ে মোট বরাদ্দকৃত একক ঘরের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৮০০টি, যার মধ্যে গত ২৬ এপ্রিল হস্তান্তরিত হয় ৩২ হাজার ৯০৪টি। সূত্রঃ একাত্তর টিভি।













