মাদরাসায় ক্লাস চলাকালে প্রধানদের সার্বক্ষণিক মাদরাসায় অবস্থান করতে ফের নির্দেশ দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এমপিওভুক্ত ও ননএমপিও ফাযিল, আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ, দাখিল মাদরাসার সুপার ও ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোর প্রধানদের এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে, জরুরি কাজে মাদরাসার বাইরে যেতে হলে স্থানীয় প্রশাসন বা মাদরাসার গভনিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটিকে জানিয়ে বাইরে যেতে হবে প্রধানদের। একইসঙ্গে ‘মুভমেন্ট রেজিস্ট্রার’ তৈরি করে ক্লাসের সময় জরুরি প্রয়োজনে মাদরাসা থেকে বাইরে যাওয়ার তথ্য লিপিবদ্ধ করতে বলা হয়েছে। আর পরীক্ষা, নিয়োগ, কমিটি গঠনসহ অন্যান্য কাজে উপাধ্যক্ষ, সহসুপার, প্রতিনিধি বা অন্য শিক্ষক কর্মচারীর মাধ্যমে করাতে মাদরাসাগুলোর অধ্যক্ষ ও সুপারদের নির্দেশ দেয় হয়েছে।
রোববার মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রধানদের এসব নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে গত মার্চ মাসেও আদেশ জারি করে একই নির্দেশনা দিয়েছিলো অধিদপ্তর। রোববার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে এম রুহুল আমিনের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, সারাদেশে সরকারি, এমপিওভুক্ত, অনুদানভুক্ত, এমপিওবিহীন ও অনুদানবিহীন কামিল, ফাযিল, আলিম, দাখিল ও এবতেদায়ী স্তরের অনেক মাদরাসা রয়েছে। এসব মাদরাসার পরিচালনায় প্রতিবছর সরকারের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এসব মাদেোসায় লেখাপড়া করে। আগামী দিনে দেশকে পরিচালনায় এসব শিক্ষার্থীকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে হবে। এজন্য মাদরাসায় নিয়মিত পাঠদানসহ শিক্ষার মান উন্নত করতে হবে। অনেক মাদরাসায় অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রম চলে। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মাদরাসা পরিদর্শনের সময় অধ্যক্ষ, সুপার বা ইবতেদায়ি প্রধানদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। সার্বিকভাবে অভিভাবক হিসেবে মাদরাসার অধ্যক্ষ, সুপার ও ইবতেদায়ি প্রধানদের দায়-দায়িত্ব ব্যাপক। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিভিন্ন সভা বা অফিসের প্রয়োজন বা অন্যান্য কাজকর্মের অজুহাত দেখিয়ে প্রায়ই মাদরাসার অধ্যক্ষ, সুপার, ইবতেদায়ি প্রধানরা ক্লাস চলার সময়ে মাদরাসার বাইরে অবস্থান করেন। অনেক সময় মাদরাসা থেকে দূরে এমনকি রাজধানীতে একাধিক দিন অবস্থান করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ, সুপার বা ইবতেদায়ি প্রধানদের মাদরাসা থেকে অন্য কোথাও গমনের কোন তথ্যা বা রেকর্ড মাদরাসায় সংরক্ষণ করা হয় না।
অধিদপ্তর আরও বলছে, মাদরাসার অধ্যক্ষ, সুপার বা ইবতেদায়ি প্রধানরা মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকলে পাঠদান বা শ্রেণি কার্যক্রম যথাযথভাবে হয় না। অন্যান্য শিক্ষক কর্মচারীরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে অবহেলার সুযোগ পেয়ে যান। ফলে মাদরাসার মানসম্মত শিক্ষাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয়। অথচ মাদরাসার বাহিরের অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ অধ্যক্ষ, সুপার বা ইবতেদায়ি প্রধানদের পরিবর্তে অন্য উপাধ্যক্ষ, সহ-সুপার, প্রতিনিধি বা শিক্ষক-কর্মচারীদের মাধ্যমে সম্পন্ন করানো যেতে পারে। তাছাড়া অধ্যক্ষ সুপারদের বাইরে যাওয়া তথ্য নিয়ে মাদরাসায় মুভমেন্ট রেজিস্টার সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
তাই, মাদরাসার অধ্যক্ষ, সুপার বা ইবতেদায়ি প্রধানদের নিয়মিতভাবে মাদরাসায় উপস্থিতি এবং পাঠদান বা শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে সার্বক্ষনিকভাবে মাদরাসায় অবস্থান করতে বলেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। কম গুরুত্বপূর্ণ কাজে অধ্যক্ষ বা সুপার বা ইবতেদায়ি প্রধানদের পরিবর্তে অন্য শিক্ষক বা কর্মচারীদের মাধ্যমে সম্পন্ন করাতে বলা হয়েছে। আর পরীক্ষা, স্বীকৃতি, কমিটি, নিয়োগ ও অন্যান্য কাজে যতদূর সম্ভব অধ্যক্ষ, সুপারের পরিবর্তে উপাধ্যক্ষ, সহ সুপার, প্রতিনিধি বা অন্য শিক্ষক কর্মচারীর মাধ্যমে সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
অধিদপ্তর আরও বলছে, জরুরি বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে মাদরাসার বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে স্থানীয় প্রশাসন বা গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে জানিয়ে গমনের বিষয়টি মুভমেন্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করবেন। মানসম্মত মাদরাসা শিক্ষা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা চেয়েছে অধিদপ্তর।
এর আগে গত ৩ মার্চ একই নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করেছিলো মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষার চ্যানেলের সাথেই থাকুন। ভিডিওগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।
সূত্রঃ দৈনিক শিক্ষা।












