ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ইসলাম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ওশানের বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও এর বিচার চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।
জানা যায়, অভিযুক্ত রিজভী আহমেদ ওশান বিশ্ববিদ্যালয়রে ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নড়াইল জেলা শাখা ছাত্রলীগের সদস্য।
জানা যায়, সম্প্রতি চন্দ্রনাথ পাহাড়ে আযানের ঘটনায় দুজন মাদরাসাছাত্রকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ বিষয়ে মুহাম্মদ সা:-কে জড়িয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন ওশান। তার এ পোস্টে ইসলাম ধর্ম ও মুহাম্মদ সা:-কে নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় ইসলাম সম্পর্কে কটুক্তিমূলক পোস্ট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে তার বিচার চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে শাখা ছাত্রলীগ নেতা রেজওয়ান উল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এই ছেলেকে না চিনলেও অনেক আগে থেকেই এর বিরুদ্ধে মারধর/হুমকি দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ শুনেছিলাম। পরবর্তীতে জানতে পারি তিনি ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় ফেসবুকে কটাক্ষ করে। সম্প্রতি রাসুলুল্লাহ সা:- কে নিয়ে জড়িয়ে দেয়া স্ট্যাটাস অত্যন্ত আপত্তিকর। এর বিরুদ্ধে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
ছাত্রলীগ নেতা শাহজালাল সোহাগ বলেন, ‘ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে যারা ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করবে তাদের আমরা সমর্থন করি না। এ ঘটনায় জড়িত ওশানের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
ছাত্রলীগ নেতা নুর আলম বলেন, ‘চন্দ্রনাথ পাহাড়ে যে ঘটনা ঘটেছে সেটাও যেমন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের সামিল। তদ্রুপ ওশান সেই ইস্যুটির সাথে আমাদের প্রিয় নবি সা:-কে যে বিদ্রুপ করেছে সেটাও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের সামিল। বাংলাদেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। বঙ্গবন্ধুর ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। সব ধর্মের সমান সুযোগই হলো ধর্মনিরপেক্ষতা।’
এ ব্যাপারে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে এমন কোনো কথা নেই যা ধর্মবিদ্বেষী। কেউ যদি ছাত্রলীগের নাম ধারণ করে সংগঠনকে ধর্মবিদ্বেষী প্রমাণ করার চেষ্টা করে তাহলে তার উচিৎ গঠনতন্ত্র ভালোভাবে পড়া। কোনো ধর্মের বিষয়ে কটুক্তি করা ছাত্রলীগ সমর্থন করে না। কেউ তা করলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘স্মারকলিপি হাতে পেয়েছি। ভিসি স্যারের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’












