ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির নলছিটি আ’লীগের একাংশের টান্ডারবাজীতে বিগ্ন ঘটায় আ’লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ১০ নেতাকর্মী ও এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একমাস পূর্বে (২৪জুন) অনুষ্ঠিত এ টেন্ডারের বিষয়ে উল্লেখ করে এলজিইডির নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবির বাদী হয়ে ২৫ জুলাই রাতে থানায় মামলাটি (নং-১২) দায়ের করেছে। মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে সরকারী কাজে বাধা দানসহ দ:বি:১৪৩, ৪৪৮, ৩৩৮, ৩৫৩ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। নলছিটি থানা পুলিশ গত ২৬ জুলাই মামলার ৪নং আসামী যুবলীগ নেতা লুৎফর রহমান শাহিনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
প্রকৌশলী ইকবার কবির এজাহারে উল্লেখ করেন, ২৪ জুন রাত ৮টার সময় আসামীরা তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে সরকারি কাজে বাধাঁ প্রদান করে। এক পর্যায়ে তাকে কিল ঘুষি মেরে অফিসের মেঝেতে ফেলে দিয়ে নানপ্রকার হুমকি প্রদান করেন। আসামীরা নিজেদের উপকূল কনেষ্ট্রাকশন, চরফ্যাশন ভোলার ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে চলমান টেন্ডারে অংশগ্রহন করেছে বলে দাবী করে।
আসামীদের মধ্যে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ওয়াসিম হাওলাদার, লাইজু রহমান রিয়াজ, মোঃ জকির, মোঃ লুৎফর রহমান শাহিন, মহিউদ্দিন, মোঃ ইলিয়াস, আবুল কালাম আজাদ, মোঃ হানিফ হাওলাদার, তৌহিদ গাজী, দুলাল ও বরিশালের বহুল প্রচারীত দৈনিক আজকের বার্তার ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি সাংবাদিক এম আর কামরুল।
আসামীদের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়, একমাস পূর্বের আমরা কিছু বন্ধুরা উপকূল কনেষ্ট্রাকশন লাইসেন্সে ২ কোটি ২৮লাখ টাকা ব্যায়ে ৩গ্রুপ স্কুল বাউন্ডারী নির্মান কাজের ই-টেন্ডারে অংশ গ্রহন করি। ২৪জুন কোড নাম্বার প্রকাশের দিন আমরা উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে সর্বনিন্ম দরদাতা কে হয়েছে জানতে যাই। কিন্তু তিনি টেন্ডারের কোড নাম্বার প্রকাশ না করায় সামান্য কথার কাটাকাটি হয়েছে। মারধরের কোন ঘটনা ঘটলে থানা পুলিশ বা স্থানীয় সাংবাদিক সবাই তো জানতো ? শুধুমাত্র টেন্ডারে অংশ নেয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে এ গায়েবী মামলা করা হয়েছে।
এদিকে সাংবাদিক এম আর কামরুল জানায়, গত ২৪ জুন ঠিকাদারদের অভিযোগে প্রেক্ষিতে আমি প্রকৌশলী ইকবাল কবিরের কাছে টেন্ডারের আইডি ওপেন করা হচ্ছেনা শুনলাম আসল বিষয়টি কি? শুধু এতোটুকু জানতে চেয়ে ছিলাম। একমাস পরে ২৬ জুলাই শুনলাম একটা মামলা হয়েছে, যাতে আমিও আসামী।
এব্যাপারে এলজিইডি নলছিটির উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবির বলেন, আমি আসামীদের সবাইকে চিনিও না। উপর মহলের নির্দেশে ও তাদের দেয়া তালিকা অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছি । টেন্ডার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ২৪ জুনের টেন্ডার স্থানীয় সরকার দলের নেতারা আগেই ভাগ ভাটোয়ারা করে নিয়েছে তাসত্বেও আসামীরা আমার অফিসে এসে হট্টগোল করেছে। যার প্রমান সেদিনে সিসি ক্যামেরা ফুটেজও রয়েছে।
এ ব্যাপারে নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জ মুঃ আতাউর রহমান বলেন, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী কর্তৃক দায়েরকৃত অভিযোগে ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। এ মামলা মামলার চার নং আসামী মোঃ লুৎফর রহমান শাহিনকে আটক করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চলছে।#










