নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা যুবতীকে (২২) মারধরের ঘটনায় মামলা দায়েরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ৩ সহোদরকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোমেনা (মেম্বার) এর ছেলে রোমান (৩৫), রানা (৩২) ও রুবেল (৪০)। ২৭ আগস্ট শনিবার সদর ও বেগমগঞ্জ উপজেলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোমেনার ছেলে রোমান (৩৫) গত রোযার ঈদের পর থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভােগীকে ধর্ষণ করে আসছিল। পারিবারিক সমস্যা থাকায় প্রায় সময় মা-বাবা, বড় ভাইয়েরা বাড়ির বাইরে থাকতো। বাড়িতে ছোট ৩ ভাইকে নিয়ে থাকতেন ওই যুবতী। গত রমজানের ঈদের পর থেকে প্রায় রাতে ভুক্তভোগীর শয়নকক্ষে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন রোমান। এ ঘটনার পর নির্যাতিতার মা বাড়িতে ফিরলে বিষয়টি তাকে অবগত করা হয়।
পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিযুক্ত রোমানের পরিবারকে অবগত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের কয়েক দফায় মারধর করে রোমান ও তার পরিবারের লোকজন। এদিকে ওই যুবতী ৩ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে রোমানকে বিয়ের জন্য বলেন। তখন রোমানের পরিবারের লোকজন নির্যাতিতা ও তার পরিবারকে বাড়ি ছাড়ার জন্য এবং থানায় কোনো অভিযোগ দিলে হত্যা করবে বলেও হুমকি দিতে থাকেন।
২৪ আগস্ট বুধবার বিকালে ঘরের পাশের পুকুরঘাটে কাজ করছিলেন ভুক্তভোগী। এ সময় রোমান ও তার ভাই রুবেল এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করেন। পরে বাড়ির লোকজন আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সে রাতেই ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিরা এলাকায় মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া অত্র মামলার অন্যতম আসামি মো. রুবেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বেগমগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’










