অনলাইন ডেস্কঃ অধ্যাপক রেহমান সোবহান কিংবা ড. কামাল হোসেন যেকোনো একজনকে রাষ্ট্রপতি এবং ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে প্রধানমন্ত্রী করে ‘জাতীয় সরকারের ফর্মুলা’ উপস্থাপন করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সোমবার (১৬ মে) ‘জাতির সংকট নিরসনে জাতীয় সরকার’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে রাষ্ট্রপতি হবেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান অথবা ড. কামাল হোসেন।
জাতীয় সরকারের আরও অন্যান্য দায়িত্বে যাদেরকে রেখেছেন ডা. জাফরুল্লাহ- জনসংযোগ, স্বরাষ্ট্র ও জন প্রশাসন দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, দূর্নীতি দমনে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) সাখাওয়াত হোসেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদদের তালিকা প্রণয়নে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, জবাবদিহিতামুলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল (অব:) ইকবাল করিম ভূইঁয়া প্রতিরক্ষায়।
আইন, সংসদ ও সংবিধান সংস্কারে ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন। সংগে মানবাধিকার ও আইন কমিশনে অধ্যাপক আসিফ নজরুল। পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক সম্পর্কে আবুল হাসান চৌধুরী (কায়সার), প্রতিমন্ত্রী বিএনপির শ্যামা ওবায়েদ, অর্থ ও দরিদ্রতা নিরসনে ড. বিনায়ক সেন, ব্যাংক ও মানিলন্ডারিং নিয়ন্ত্রনে ড. সালেহ উদ্দিন আহমদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রনে এস এম আকরাম, সংখ্যালঘু ও আদিবাসীর দায়িত্বে অধ্যাপক কোমল বড়ুয়া, বৈদেশিক বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কিত দায়িত্বে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
শিক্ষা ও মানব উন্নয়নে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকবেন অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামান, সংগে ওষুধ প্রশাসনের প্রধানের দায়িত্বে বিএসএমএমইউ অধ্যাপক সাইদুর রহমান খসরু এবং মেডিকেল ও প্যারামেডিকেল শিক্ষার ব্যাপক প্রসারের দায়িত্বে গণ-বিশ্বিবদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক আবুল কাশেম চেীধুরী, শিল্প বাণিজ্যের দায়িত্বে শেখ বসিরুদ্দিন আকিজ, তথ্য সম্প্রচার ও মিডিয়া দায়িত্বে শিল্পপতি-মিডিয়া মালিক এ কে আজাদ; স্থানীয় শাসন ও প্রদেশ সৃষ্টি সংক্রান্ত মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ড. তোফায়েল আহমেদ।
নৌপথ, নৌবন্দর, আন্তর্জাতিক নদীর পানির অধিকার সংক্রান্ত মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে প্রকৌশলী ইনামুল হক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দায়িত্বে প্রকৌশলী সামসুল আলম, নগর উন্নয়ন ও যোগাযোগে স্থপতি মুবাশ্বের হোসেন। প্রবাসী অভিভাষীদের কল্যাণ এবং বৈদেশিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংযোগ স্থাপন ও শিক্ষক-ছাত্র এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম স্থাপনে প্রবাসী শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হাসনাত হোসেন।
ধর্ম ও নৈতিকতায় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক পারভীন হাসান, সংস্কৃতি- যাত্রা ও মেলার প্রসারে গায়িকা শিল্পী নবনীতা চৌধুরী, পরিবেশ ও প্রাণীজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে এডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শ্রমিক কল্যাণ ও নিরাপদ সড়ক দায়িত্বে বাম সম্মিলিত জোট প্রতিনিধি জনাব মনজুরুল আহসান।
নারী ও যুব উন্নয়নে বিএনপি প্রতিনিধি ব্যারিষ্টার জাইমা রহমান, মানবাধিকার ও সমাজ কল্যানে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি শেখ রেহেনা এবং খাদ্য সরবরাহ ও রেশনিং এ মতিয়া চৌধুরী, সংগে কৃষি ও কৃষক সমবায় প্রসারে ড. শওকত আলী।
এই রূপরেখার সাথে সাথে কর্মপরিকল্পনাও দিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ। সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন নীতিতে আস্থা সৃষ্টি, সুশাসন করা এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে সংবিধানের পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ ও গণভোটে নির্বাচিত মাত্র দুই বৎসর মেয়াদী একটি সর্বদলীয় সার্বজন স্বীকৃত জাতীয় সরকার।
জাতীয় সরকারের সদস্য বৃন্দ, ন্যায়পাল ও বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যানগণ ২০২৮ সন পর্যন্ত কোন নির্বাচনে অংশ নেবেন না। তাদের সকল আর্থিক তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। জাতীয় সরকারের প্রধান করণীয় সমূহতে মেয়াদ ভিত্তিতে কার্যপ্রণালী দেখিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ।
প্রথম তিন মাসের কর্মপরিকল্পনায় রয়েছে- নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচনী আইনের কতক ধারার সংস্কার, গণভোট এবং ‘‘না’’ ভোটের প্রচলন, প্রশ্নবিদ্ধ সাংসদকে ৫০হাজার ভোটারের স্বাক্ষরে প্রত্যাহার ব্যবস্থা।
জনস্বার্থ সম্পর্কিত বিভাগে ন্যায়পাল নিয়োগ, প্রকাশ্যে পান সেবন ও ধূমপান নিষিদ্ধকরণ এবং ১৯৮২ সনের জাতীয় ওষুধ নীতি পুরোপুরি কার্যকর করে, ওষুধ, শৈল্য চিকিৎসা ও রোগ নিরীক্ষার দর সরকার স্থির করে দেবেন। পর্যাপ্ত লাভ দিয়েও ওষুধের সর্বোচ্চ বিক্রি মূল্য অর্ধেকে নেমে আসবে, অপ্রয়োজনীয় ও প্রতারণাূলক ওষুধ বাতিল হবে। সকল ওষুধ কোম্পানী সমূহকে একাধিক কাঁচামাল উৎপাদনে প্রণোদনা দেয়া হবে।
মানহানির মামলা করতে হলে ক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা কোর্ট ফি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির শহরে ফৌজদারী মামলা করতে হবে। একই মামলা বিভিন্ন জেলার একাধিক আদালতে করা যাবে না। পরবর্তী ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনায় রয়েছে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজনৈতিক কর্মী ও আলেমদের জামিন নিশ্চিত করে এক বৎসরের মধ্যে তাদের বিচার শেষ করে রায় কার্যকর।
সুশাসন ও সকল অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে ১৫-১৭টি প্রদেশে বিভক্তকরণ, প্রত্যেক প্রদেশে ৬-৭ জন বিচারপতি সমন্বিত হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠা এবং সুপ্রীম কোর্টে একটি সার্বক্ষনিক সাংবিধানিক বেঞ্চ সৃষ্টিসহ সুপ্রীম কোর্টে ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ রাখা হবে। বেঞ্চ ৬টি- ফৌজদারী, দেওয়ানী, নির্বাচন ও মৌলিক অধিকার, কোম্পানী বিরোধ ও আয়কর সংক্রান্ত, সকল প্রকার দুর্নীতি বিষয়, যৌন নিপীড়ন ও নারীদের অধিকার।
বিচারাধীন মামলার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসা অবধি আদালতের সাপ্তাহিক ছুটি একদিন করা হবে। সরকারি চাকরীতে শিক্ষিত বেকাররা ৪০ বৎসর বয়স অবধি অংশ নিতে পারবে। তবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে ৩০ বৎসরের মধ্যে যোগ দিতে হবে।
শিল্প ও কৃষিতে স্বল্পশিক্ষিতদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। শিক্ষিত নবীন বেকাররা ৬ মাস বয়োবৃদ্ধ সেবায় প্রশিক্ষন নিয়ে উন্নত দেশ সমূহে অধিক আয় করতে পারবেন। চিকিৎসা পেশাজীবিদের স্বল্পতা নিরসনে, সুস্থ থাকলে ৭৫ বৎসর পর্যন্ত মেট্রোপলিটন শহরের বাইরে কর্মে পুন:নিয়োগ পাবেন। জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সকল সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।
পরবর্তী ৯ মাসের মধ্যে ২ কোটি দরিদ্র পরিবারের জন্য সাপ্তাহিক রেশনিং চালু হবে, মাসিক ১০০ টাকায় তিন বালবের বিদ্যুৎ সুবিধা এবং মাসিক ২০০ টাকার প্রিমিয়ামে ওষুধসহ সকল প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা পাবেন। দুর্নীতি তথ্যের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
ভোটার তালিকা সংশোধন, জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সহজ করা, ৩-৪ প্রদেশে অফিস থাকলে চলবে, প্রত্যেক শাখায় চাঁদা দেওয়া কমপক্ষে ২০০০ সদস্য থাকতে হবে তন্মধ্যে ১-৫ নারী। জাতীয় রাজনৈতিক দল সমূহ তাদের দলীয় ব্যানারে মিউনিসিপ্যালটি, ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
পেশাজীবি, বয়োজ্যৈষ্ঠ অবসরপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদ ও সরকারী-বেসরকারী ব্যক্তিদের নিয়ে জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। ইলেকট্রনিক ভোটার মেসিন প্রত্যাহার করে নয় মাসের মধ্যে সুষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন সমাপন। ইভিএমে ভোট কারচুপির সম্ভাবনা সমধিক।
সুষ্ঠ ও সুলভ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারী ও বেসরকারী মেডিকেল কলেজে প্রতিবছর ২০ হাজার ছাত্র ভর্তি করা হবে, সমসংখ্যক ছাত্র দন্ত, ফিজিওথেরাপি, নাসিং ও অন্যান্য প্যারামেডিকেল কোর্সে ভর্তি করা হবে। প্রত্যেক সরকারী ও বেসরকারী মেডিকেল কলেজ ন্যূনতম ১০টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। ছাত্ররা প্রতি সেশনে একমাস সেখানে অবস্থান করে শিক্ষা নেবে, শহীদদের কবর জেয়ারাত করবে এবং একদিন একটি দরিদ্র পরিবারে অবস্থান করে দরিদ্রতা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করবে। নবীন চিকিৎসকদের ইন্টার্ণশীপের মেয়াদ হবে দুই বৎসর- এক বৎসর নিজ নিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং দ্বিতীয় বৎসর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের বিভিন্ন শাখায়।
বেসরকারী ক্লিনিক সমূহ কেবলমাত্র বেসরকারী প্রাইভেট চিকিৎসক এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চিকিৎসক দ্বারা পরিচালনা করতে হবে। প্রাইভেট ক্লিনিকে কোন সরকারী চিকিৎসককে সার্বক্ষনিক বা খন্ডকালীন নিয়োগ দেয়া চলবে না। জেনারেল প্রাকটিশনার্স, রেফারেল চিকিৎসা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রাইভেট প্রাকটিশ পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে এবং স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হবে।
জাতীয় সরকারের প্রথম বাজেটে বার্ষিক ব্যক্তিগত আয় ৫ লাখ টাকা অবধি আয়কর মুক্ত হবে, সকল মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী আমদানী শুল্কমুক্ত হবে। ৫% সুদে কৃষিতে ব্যাপক বিনিয়োগ হবে। গড়ে প্রতি ৫০ হাজার লোকের বাসস্থান ইউনিয়নে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের নিরাপত্তা বেষ্টনী, গভীর নলকুপ, ইলেকট্রিক সাবষ্টেশন, চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের জন্য ৬০০-৮৫০ বর্গফুটের ১০ টি বাসস্থান নির্মান, ছাত্রদের ডরমিটরী, ল্যাবরোটরী ও অপারেশন থিয়েটারের আধুনিকরনে প্রয়োজন হবে মাত্র ১০ (দশ) কোটি টাকা। জাতীয় সরকারের মেয়াদকালে অন্ততপক্ষে ১০০০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হবে, প্রাথমিক অবস্থায় ২ জন সার্বক্ষনিক চিকিৎসক প্রদেশ থেকে নিয়োগ দেয়া হবে। ৫ জন নবীন চিকিৎসকের নিয়োগ ব্যবস্থা থাকবে আকর্ষনীয় বেতন ও প্রশিক্ষন সুবিধায়- ইউনিয়ন পর্যায়ে সার্বক্ষনিক অবস্থান ভাতা, বিশেষজ্ঞ ভাতা, শিক্ষকতা ভাতা, বিনে ভাড়ায় বাসস্থান, স্কুল স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিদর্শন ভাতা প্রভৃতি প্রতি মাসে পাবেন।
কারাগার, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর হাসপাতাল সমূহ সরাসরি সেনা সদস্য কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে, ফলে দুর্নীতি বিলুপ্ত হবে। প্রত্যাগত প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে ভিআইপি সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে, শবদেহ সরকারী খরচে দেশে আনা হবে। প্রত্যেক প্রবাসী ৫০ লাখ টাকার জীবন বীমা সুবিধা পাবেন।
আইন শৃংখলা নিশ্চিত করে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। একই সাথে প্রদেশ/ষ্টেট সংসদের নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রদেশ গভর্নর মনোনয়ন দেবেন, তাঁরা নির্বাচিত হতে পারেন প্রাদেশিক সাংসদ দ্বারা। রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ ও গণভোটের মাধ্যমে প্রস্তাবিত সর্বদলীয় ও বিশিষ্ট নাগরিক গঠিত জাতীয় সরকার।
সূত্রঃ বাংলা ভিশন।












