সোমালিয়ার প্রেসিডেন্টের ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক। ইস্তাম্বুলে সড়কে এক কুরিয়ার কর্মীকে গাড়িচাপা দেয়ার দায়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে দেশটি। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্টের ছেলের নাম মোহাম্মদ হাসান শেখ মোহামুদ।
চাপাদেয়ার পর আহত সেই কুরিয়ারকর্মী পরে মারা যান। পুলিশের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইস্তাম্বুলে প্রকাশ্য দিবালোকে মোহাম্মদ হাসান শেখ মোহামুদ ওই কুরিয়ারকর্মীকে ধাক্কা দেন। পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনার সময় তিনি যে গাড়ি চালাচ্ছিলেন সেটি ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সোমালি কনস্যুলেটের।
এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোলু গত ৩০ নভেম্বরের ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ শেয়ার করেছেন। ওই ফুটেজে শহরের ব্যস্ত মাল্টি-লেন রাস্তার মোড়ে মোটরসাইকেলের পেছনে একটি গাড়িকে ধাক্কা দিতে দেখা যায়।
দুর্ঘটনার পর মোটরসাইকেল চালক দুই সন্তানের বাবা ইউনুস এমরে গোকারকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয়দিন পরে মারা যান ৩৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি।
নিহত গোকারের আইনজীবী জানিয়েছেন, প্রাথমিক পুলিশ রিপোর্টে বলা হয়- দুর্ঘটনায় গোকারের দোষ ছিলো এবং এই কারণে মোহামুদকে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু নিরাপত্তা ফুটেজের পর্যালোচনায় দেখা গেছে দুর্ঘটনার অন্য ব্যাখ্যাও থাকতে পারে।
অবশ্য সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদের ছেলে মোহাম্মদ হাসান শেখ মোহামুদ এই ঘটনায় কোনও মন্তব্য করেননি। পরে গত শুক্রবার তুর্কি প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাসান শেখের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সম্প্রতি পুলিশ তার খোঁজে তার বাড়িতে যায়। তবে দেখা যায়, তিনি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সেখানে নেই। এরপরই তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
উল্লেখ্য, তুরস্ক এবং সোমালিয়া গত এক দশক ধরে ক্রমবর্ধমান উষ্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক উপভোগ করছে। এছাড়া সোমালিয়ার অবকাঠামোখাতে বিনিয়োগ করা ছাড়াও দেশটিকে সামরিক প্রশিক্ষণ এবং মানবিক সহায়তাও প্রদান করে থাকে তুরস্ক।












