যানজটের নগরী ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য আশীর্বাদ মেট্রোরেল। আর সেই মেট্রোরেলে দুর্বৃত্তরা তাণ্ডব চালালে ২৩ দিন ধরে বন্ধ থাকে মেট্রো চলাচল। ফলে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চালু হওয়া এই বাহনে যারা যাতায়াতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, তারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। সবার একটাই প্রশ্ন, কবে চালু হবে মেট্রোরেল?
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ডাকা আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ১৯ জুলাই তারা হামলা চালিয়েছে মেট্রোরেলের কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশনে। এর আগে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে ১৭ জুলাই বিকেল থেকে বন্ধ রাখা হয় মেট্রোরেল চলাচল।
আর এই প্রেক্ষাপটে ২০ জুলাই সকালে জরুরি মেরামতের প্রয়োজনে এবং জনগণের জানমালের নিরপত্তার স্বার্থে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে মেট্রোরেল পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
এ সময় মেট্রোরেলের এ দুই স্টেশন পুনরায় চালু হতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আর এই দুই স্টেশন বাদে মেট্রো চলাচল করতে অপেক্ষা করতে হবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর। ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা এখনও পাওয়া যায়নি।
এদিকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ছয় দিন পার হয়েছে আজ রোববার (১১ আগস্ট)। গত বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) শপথ নিয়েছে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও চালু হচ্ছে না রাজধানী ঢাকার অন্যতম গণপরিবহন মেট্রোরেল। কবে চালু হবে তা নিয়ে কোনো ধারণাও কেউ দিতে পারছেন না।
তখন গতকাল শনিবার (১০ আগস্ট) ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের কর্মবিরতি নিয়ে এক মানববন্ধনে জানা যায়, মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশনের মধ্যে মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন ছাড়া বাকি ১৪ স্টেশনে কোনো ক্ষতি হয়নি। এই স্টেশনগুলো দিয়ে অনায়াসে যেকোনো ট্রেন অপারেশন করা যাবে।
তারা জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মেট্রোরেলের কোচ, লাইন ও সংকেত ব্যবস্থার কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশনের টিকিট বিক্রি ও যাত্রীদের ভাড়া আদায় সংক্রান্ত ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুটি স্টেশন বাদ দিয়ে বাকি ১৪ স্টেশনের মধ্যে মেট্রোরেল যেকোনো সময় চালু করা সম্ভব।
এ বিষয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কোম্পানি সচিব (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ আবদুর রউফ সময় সংবাদকে বলেন, দীর্ঘদিন মেট্রো বন্ধ থাকায় এটির সব ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না, তা দেখতে হবে। সেক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের অনুমতি পেলে পরীক্ষামূলক চালানো শুরু করা যাবে। তাছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় রয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আওতায়। ফলে এই বিষয়ে সড়ক সচিব প্রধান উপদেষ্টার কাছে নির্দেশনা চাইলে তারপর কবে নাগাদ ট্রেন চলাচল করবে তা বলা যাবে।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, ‘মেট্রোরেল ঢাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় গণপরিবহন। এটা আবার চালুর বিষয় নিয়ে আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করছি। তারপর মেট্রোরেল চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’
এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মেট্রোরেলের চলাচল কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। মেট্রোরেল চলাচল পুনরায় শুরুর প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে তারা কাজ শুরু করেছেন। দুই-তিন দিনের মধ্যে ট্রায়াল রান শুরুর আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে অবিচার ও বৈষম্য দূরীকরণে ছয় দফা দাবি আদায়ে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ৭ শতাধিকেরও অধিক কর্মচারী। ইতোমধ্যে তারা দুই দিন মানববন্ধন করেন।












