রাজাপুর(ঝালকাঠি)প্রতিনিধি ঃ
ঝালকাঠির রাজাপুরে ৬১ নং উত্তর পালট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের জন্য ডুবতে বসেছে শিক্ষার্থী সংকটে থাকা ৬১ নং উত্তর পালট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ফরিদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার ও তার ভাই ওই স্কুলের পিয়ন আলমগীরের বিরুদ্ধে।
রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায় ৬১ নং উত্তর পালট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণিতে ৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। যার মধ্যে ৪র্থ শ্রেণিতে ৩ জন অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেয়ানো হয়। এদের মধ্যে হাফসা আক্তার ফারজানা বড়ইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী যার রোল নং ৩১। অপর দুজন মধ্যবড়ইয়া ৫৮ নং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র কাজি আল রাওফি ইসলাম বাপ্পি, যার রোল নং ১৯ ও হাফিজুর ইসলাম সাইয়েম যার রোল নং ১৭। তারা মধ্যবড়ইয়া ৫৮ নং প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ইউনিক আইডি ও উপ বৃত্তির সুবিধা নিচ্ছে।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সহ সহকারি দুই শিক্ষক ও পিয়ন সময় মতো স্কুলে আসেনা। বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার তার বাড়িতে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। এমনকি শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতাও দেখাতে পারেনি প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার,সহকারি শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও রুহুল আসিন ও পিয়ন আলমগীর কাজির মধ্যে ক্লাস চলাকালীন সময়ে প্রায়ই ঝগড়া হয়। যে কারনে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকে। পরিক্ষা চলাকালীন সময়ে ক্লাসরুমের ভিতরে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের প্রশ্নের উত্তর দেখিয়ে দিচ্ছেন। বিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সহকারি শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ফরিদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার ও তার ভাই ওই স্কুলের পিয়ন আলমগীরের বিরুদ্ধে।
সহকারি শিক্ষক শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার ও তার ভাই ওই স্কুলের পিয়ন আলমগীর হোসেন যথাযথভাবে আসেন না বা ক্লাস করান না এবং স্কুলের ল্যাপটপ বাড়িতে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করাসহ নানা অনিয়ম করে আসছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় এবং ফেসবুকে ভিডিও বক্তব্য দেয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার ও তার ভাই ওই স্কুলের পিয়ন আলমগীর হোসেন ভাড়াটিয়া লোকজন স্কুলে প্রবেশ করিয়ে সহকারি শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ফরিদকে বেধরক মারধর (জুতাপেটা) করা সহ হামলা চালিয়ে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে।
শিক্ষকের উপড়ে হামলার সহ অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে যা বললেন ৬১ নং উত্তর পালট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার বলেন, সহকারি শিক্ষক শফিক বিলম্ব করে স্কুলে আসে এবং সঠিকভাবে ক্লাস না করিয়ে শিক্ষার্থীদের তাড়িয়ে দেয়। এসব ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেছে, এ ঘটনায় আমি জড়িত নয়। অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিয়ে পরীক্ষা দেয়ানোর বিষয়ে তিনি দাবি করেন, তাদের মধ্যে দু–জন এ স্কুলের ছাত্র এবং ল্যাপটপ সব সময়ই স্কুলে থাকে আজকে বাড়িতে রেখে এসেছি।
উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আক্তার হোসেন জানান, সহকারি শিক্ষক শফিকুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে অনিয়ম ও মারধরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।










