জনতার খবর ডেস্কঃ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখ বলেছেন, ‘যে–ই ঘটাইছে দ্বিতীয় তলা থেকে, লঞ্চের মাঝখান থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটাইছে।’ ২৪ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, কাউকে সন্দেহ করা যাবে না। কিন্তু অবশ্যই কোনো ষড়যন্ত্র আছে। ইঞ্জিনে আগুন লাগলে ইঞ্জিন রুম পুড়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু ওপরে বা আগুন সামনে যাওয়ার কথা নয়।
হামজালাল শেখ আরও বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটি তদন্ত করলে অগ্নিকাণ্ডের কারণ বের হয়ে আসবে। লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে তিনটি তেলের ট্যাংকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার লিটার তেল ছিলো বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, সব আগুন নিভে যাওয়ার পরও তেল থাকার কারণে ইঞ্জিন রুমের আগুন আরও দুই ঘণ্টা জ্বলেছে।
তবে এমভি অভিযান-১০ নামে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড ও এর পরের ক্ষয়ক্ষতির জন্য নৌযানটির মাস্টার, সারেং, সুকানিসহ সব স্টাফকেই দুষছেন বেঁচে ফেরা যাত্রীরা। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তারা বলছেন, আগুন লাগার পরও দীর্ঘ সময় লঞ্চটি চালানো হয়। যার পরিণতিতে এতো প্রাণ ঝরেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর লঞ্চটিকে তীরে ভেড়াতে ৪৫ মিনিটের বেশি সময় লাগে। আগুন লাগার সংগে সংগেই লঞ্চটিকে তীরে ভেড়ানো সম্ভব হলে প্রাণহানি এড়ানো যেতো বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ২৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামক লঞ্চের ইঞ্জিন থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হয়েছেন বহু মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেসার্স নেভিগেশন কোম্পানির এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটির ধারণ ক্ষমতা দিনে ৭৬০ জন। তবে রাতে তা কমে হয় ৪২০ জন। এছাড়া লঞ্চটির লাইসেন্সের মেয়াদও ছিলো চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় লঞ্চটি ২৫ জন স্টাফসহ ৩১০ জনের ভয়েস ক্লিয়ারেন্স দিয়ে টার্মিনাল ত্যাগ করে।
বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানান, ঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়ার সময়ই লোক ভর্তি ছিলো। চাঁদপুরে থামালে সেখানে থেকে এতো পরিমাণ লোক উঠে যে, তিল ধারণের ঠাঁইও ছিলো না। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া এলাকায় সুগন্ধা নদীতে পৌঁছালে রাত সাড়ে ৩টার দিকে লঞ্চের ইঞ্জিন কক্ষে আগুন ধরে যায়। এসময় কেবিন ও ডেকের বেশিরভাগ যাত্রীরা ঘুমিয়ে ছিলেন।
সূত্রঃ বাংলা ভিশন।










