বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হয়ে ফাইটার প্লেনের টেস্ট পাইলটের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন তিনি; পরবর্তীতে নভোচারী হওয়ার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে নাসায় যোগ দেন।
সেপ্টেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস)’ নতুন একদল নভোচারী পাঠাচ্ছে নাসা। আর ওই মিশনে প্রথম একজন নারী মহাকাশে যাচ্ছেন যিনি একজন আদিবাসী।
আইএসএসের উদ্দেশ্যে ২৯ সেপ্টেম্বরের মিশনের নেতৃত্ব দেবেন কর্নেল নিকোল অনাপু ম্যান। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হয়ে ফাইটার প্লেনের টেস্ট পাইলটের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন তিনি; পরবর্তীতে নভোচারী হওয়ার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে নাসায় যোগ দেন।
তবে, সম্ভবত বাকি সব পরিচয় ছাপিয়ে কর্নেল ম্যানের সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি একজন ‘নেটিভ আমেরিকান’ বা আদিবাসী নারী।
যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রাউন্ড ভ্যালি ইন্ডিয়ান ট্রাইবস’ নামে পরিচিত একটি জনগোষ্ঠীর সদস্য কর্নেল ম্যান। তবে এ নামটিও ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের ফলাফল। কর্নেল ম্যানের নিজের গোষ্ঠীর নাম ওয়াইলাকি। ওয়াইলাকি, ইউকি, কনকোউ ও নোমলাকির মতো আরও বেশ কয়েকটি ছোট ছোট গোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করে একসময়ে ক্যালিফোর্নিয়ার ‘রাউন্ড ভ্যালি রিজার্ভ’-এ থাকতে বাধ্য করেছিল উত্তর আমেরিকায় বসতি স্থাপনকারী ইউরোপীয় শক্তি।
পরবর্তীতে ওই ছোট ছোট গোষ্ঠীগুলো সংগঠিত হয় ‘কোভেলো ইন্ডিয়ান কমিউনিটি’ নামে, পরে যা ‘রাউন্ড ভ্যালি ইন্ডিয়ান ট্রাইবস’ নামে স্বীকৃতি পায়। আসন্ন মহাকাশযাত্রা নিয়ে নিজে ‘রোমাঞ্চ অনুভব’ করছেন বলে স্থানীয় এক সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন কর্নেল ম্যান।
“আমার মনে হয় যে আমাদের নিজেদের মানুষদের বিষয়টি জানানো উচিত, যাতে আদিবাসী শিশুরা বুঝতে পারে যে অতীতের প্রতিবন্ধকতাগুলোর অনেকগুলোই ভেঙ্গে পড়ছে”– স্বগ্রোত্রীয়দের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সংবাদপত্রে এমনটাই বলেছেন কর্নেল ম্যান।

মহাকাশে এক কেজি চারশ গ্রাম ওজনের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন ম্যান। এর মধ্যে মা’র দেওয়া একটি ‘ড্রিমক্যাচার’ও থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। “মা যখন এটা দিয়েছিলেন আমি খুবই ছোট ছিলাম,” বলেন তিনি।
উত্তর আমেরিকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ‘ড্রিমক্যাচার’ ব্যবহারের বেশ চল আছে। হাতে বোনা ড্রিমক্যাচার অশুভ শক্তি থেকে রক্ষা করে বলেই বিশ্বাস করেন স্থানীয় আদিবাসীরা।
২৯ সেপ্টেম্বরের ক্রু-৫ মিশনে ম্যানের সঙ্গে ‘স্পেসএক্স ড্রাগন’ মহাকাশযানে থাকবেন আরও তিন নভোচারী। বিবিসি জানিয়েছে, চাঁদে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে কর্নেল ম্যানের। ২০২০ সালে নাসা আসন্ন আর্টেমিস মিশনের জন্য যে নভোচারীদের নির্বাচন করেছিল, সে তালিকাতেও আছে তার নাম।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে যন্ত্রপ্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন নিকোল ম্যান।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সময়ে ফাইটার প্লেন উড়িয়েছেন তিনি। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ারে ফাইটার পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দু’বার। সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করে ছয়টি মেডেলও রয়েছে তার অর্জনের তালিকায়।
ম্যান ২০১৩ সালে নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হলেও সেপ্টেম্বরেই তিনি প্রথমবারের মতো মহাকাশে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে নাসা। নাসা নভোচারীদের ২১তম ব্যাচের সদস্য তিনি। আইএসএস এবং অদূর ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের কথা ভেবেই ওই নভোচারীদের নির্বাচন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।
২৯ সেপ্টেম্বরের ক্রু-৫ মিশনে ম্যানের সঙ্গে আরও থাকবেন জশ কাসাডা, জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সার নভোচারী কোইচি ওয়াকাতা এবং রসকসমস নভোচারী আন্না কিকিনা।
বিবিসি জানিয়েছে, আইএসএসে আড়াইশ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাবেন ক্রু-৫ সদস্যরা।












