নীলফামারী প্রতিনিধিঃ নীলফামারীতে ট্রেনে কাটা পড়ে ঝড়ে গেলো একই পরিবারের তিন ভাই-বোনসহ চার তাজা প্রান। ৮ ডিসেম্বর বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে নীলফামারীর কুন্দুপুকুর বউবাজার রেল ঘুন্টির কাছে নির্মানাধীণ একটি ব্রীজের কাছে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।
ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিলো নীলফামারীর আকাশ। সকাল সাড়ে আটটার দিকে বউবাজার এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে ট্রাক্টর থেকে ইট নামানো দেখছিলো তিন ভাই-বোন। চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রকেট ট্রেনটি ব্রিজের খুব কাছে আসলেও ট্রাক্টরের বিকট শব্দে ট্রেনের উপস্থিতি বুঝতে পারেনি তিন শিশুর কেউই।
পাশ থেকে দুর্ঘটনার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তাদের বাঁচাতে ছুটে আসেন স্থানীয় যুবক শামীম হোসেন। শামীম শিশু মমিনুরকে নিয়ে ব্রিজ থেকে ঝাঁপ দেয়ার চেষ্টা করলেও হয়নি শেষ রক্ষা। ঘটনাস্থলে মারা যায় দুই বোন রিমা ও রেশমা।
রিমা-রেশমার ছোট ভাই মমিনুর ও শামীম গুরুতর আহত হলে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতরা হলেন গ্রামের আবুল হোসেনের বড় মেয়ে রিমা আক্তার (৭), মেজো মেয়ে রেশমা (৪), ছোট ছোট ছেলে মমিনুর রহমান(৩) এবং একই গ্রামের নবাব আনোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন (২৬)।
নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজন হারানোর শোকে প্রলাপ করছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার সময় নিহত তিন শিশুর কর্মজীবী বাবা-মা কেউই বাড়িতে ছিলেন না। বাবা রেজওয়ান রিক্সা চালক ও মা মজিদা ইপিজেড শ্রমিক। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় মানুষ। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ওই পথ দিয়ে চিলাহাটি-খুলনাগামী রূপসা ট্রেনটি ঘটনাস্থলে আসলে তা আটকে ভাঙ্গচুর করে বিক্ষুব্ধরা।
স্থানীয়দের দাবি, রেল ক্রসিং না থাকায় ঝড়ে গেলো চারটি তাজা প্রান। তাই ঘটনাস্থলে গেটম্যানসহ রেল ক্রসিং করার দাবি এলাকাবাসীর। নীলফামারীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান জানান, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেলা সোয়া এগারোটায় আটক ট্রেনটি গন্তব্যে উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। পরে স্বাভাবিক হয় ট্রেন চলাচল।
সূত্রঃ একাত্তর টিভি।










