ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠি জেলায় এবছর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর ২০২১-২২ অর্থ বছরে বোরো মৌসুমে বোরো চাষাবাদ ও ৮টি রবি ফসল চাষের উপর এ-যাবৎকালের মধ্যে সর্বাধিক কৃষি প্রনোদনা বরাদ্দ দিয়েছে। জেলায় ২২ হাজার ৩ শত বিঘা চাষাবাদের জন্য ২২ হাজার ৩ শত প্রান্তিক কৃষকের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার সহায়তা প্রদান কর্মসুচির আওতায় ১ কোটি ৬১ লক্ষ ২ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছে। এই সহায়তা কর্মসুচির আওতায় বীজ ক্রয়ের জন্য ১ কোটি ২১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, সার ক্রয়ের জন্য ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার ৩ শত ৫০ টাকা ও পরিবহন খাতে ৩ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫ শত টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কর্মসুচি বাস্তবায়নে অনান্য খাতে ৩২লক্ষ ২৫৮ হাজার ১ শত ১৫ টাকা ধরা হয়েছে।
ঝালকাঠি জেলার ৪টি উপজেলা ঝালকাঠি সদর, নলছিটি উপজেলা, রাজাপুর উপজেলা ও কাঠালিয়া উপজেলায় গম, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনা-বাদাম, মুগ,মুসুর ও খেসারী ডাল চাষে ১২ হাজার ৩ শত বিঘা চাষের জন্য অনুরুপ সংখ্যক ১২ হাজার ৩ শত চাষিকে ১ কোটি ১২ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকার সার ও বীজ ক্রয় খাতে প্রনোদনা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই চাষাবাদকারি কৃষকদের সার বীজ বিতরন করা হয়েছে। এর আওতা ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭ শত ৫০ জন কৃষককে ১ বিঘা জমিতে চাষের জন্য ৩৪ লক্ষ ৩০ হাজার ৬ শত ৫০ টাকার প্রনোদনা সহায়তা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অনুরুপ নলছিটি উপজেলায় সমসংখ্যক জমিতে চাষাবাদের জন্য ৩ হাজার ৭ শত ৫০ জন কৃষকের জন্য ৩৪ লক্ষ ৩০ হাজার ৬ শত ৫০ টাকার প্রনোদনা সহায়তা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রাজাপুর উপজেলায় এই ৮টি রবি ফসল চাষে ২ হাজার ৪ শত জন কৃষককে ২ হাজার ৪ শত বিঘা চাষের জন্য ২১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩ শত ৫০টাকা প্রনোদনা সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং কাঠালিয়া উপজেলায় সমসংখ্যক ২ হাজার ৪ শত জন কৃষককে ২ হাজার ৪ শত বিঘা চাষের জন্য ২১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩ শত ৫০টাকা প্রনোদনা সহায়তা দেয়া হয়েছে।
রবি মৌসুমে উফশী জাতের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য জেলায় ২ হাজার কৃষককে ২ হাজার বিঘা জমিতে চাষের জন্য ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রনোদনা সহায়তা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর আওতায় ৫ লক্ষ ৭০ঞাজার টাকা বীজ ক্রয়ের জন্য ও ৫ লক্ষ ৪০হাজার টাকা সার ক্রয় এবং ৪০ হাজার টাকা পরিবহন খাতে বরাদ্দ রয়েছে। উপজেলাভিত্তিক সদর উপজেলায় ৮ শত বিঘা চাষের জন্য ৮ শত জন চাষিকে ৪ লক্ষ ৬০হাজার টাকা এবং নলছিটি উপজেলায় সমসংখ্যক ৮ শত বিঘা চাষের জন্য ৮ শত জন চাষিকে ৪ লক্ষ ৬০হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রাজাপুর উপজেলায় ২ শত কৃষককে ২ শত বিঘা জমিতে বোরো চাষের জন্য ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা এবং কাঠালিয়া উপজেলায় সমসংখ্যক ২ শত কৃষককে ২ শত বিঘা জমিতে বোরো চাষের জন্য ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই বোরো চাষাবাদের আওতায় হাইব্রিড জাতের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের মাঝে বীজ সহায়তা কর্মসুচির আওতায় ৩৬ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা প্রনোদনা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই কর্মসুচির আওতায় কৃষকদেরকে শুধুমাত্র বীজ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এই কর্মসুচির আওতায় বীজ ক্রয়ের জন্য ৩৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ও পরিবহন খাতে ১৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আওতায় ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ৩ হাজার ২ শত জন কৃষককে ৩ হাজার ২ শত বিঘা চাষাবাদের জন্য ১৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪ শত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং নলছিটি উপজেলায় সমসংখ্যক ৩ হাজার ২ শত জন কৃষককে ৩ হাজার ২ শত বিঘা চাষাবাদের জন্য ১৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪ শত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজাপুর উপজেলায় ৮ শত জন কৃষককে ৮ শত বিঘা হাইব্রিড জাতের ধানের চাষের জন্য ৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ৬ শত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং কাঠালিয়া উপজেলায় অনুরুপ ৮ শত জন কৃষককে ৮ শত বিঘা হাইব্রিড জাতের ধানের চাষের জন্য ৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ৬ শত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
অতীতের সময়ে প্রনোদনার বরাদ্দ এক শেনীর রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় প্রান্তিক কৃষকদের জায়গায় তালিকাভুক্ত হয়ে সার ও বীজ বরাদ্দ নিয়ে চাষাবাদ না করেই এই উপকরন বিক্রি করে হজম করেছে। সে কারনেই প্রনোদনা দেয়ার পরেও উৎপাদন বৃদ্ধির সরকারের উদ্যোগ আশানুরুপ হয়নি। উপজেলা পরিষদ থেকে সহায়তা প্রাপ্ত কৃষকদের তালিকা করে কৃষি বিভাগকে বাস্তবায়নের জন্য দেয়া হয়।










