মোঃ মোছাদ্দেক হাওলাদার, বরিশাল ॥
৮০ তম জন্মদিনে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মূখপাত্র, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। কর্মী-সমর্থক ও শুভাকাক্সক্ষীরা সরাসরি শুভেচ্ছা জানাতে না পাড়লেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক জুড়ে চলছে শুভেচ্ছার ঝড়। সেই সাথে কেক কাটা,আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে সীমিত পরিসরে জমকালো আয়োজনে বৃহত্তর বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে পালিত হয়েছে বর্ষীয়ান এই নেতার জন্মদিন।
১৫ নভেম্বর জন্মদিনের প্রথম প্রহর থেকেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তায় ছেয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। নেতাকর্মীদের মতে, দলীয় কর্মী-সমর্থক ও শুভাকাক্সক্ষীদের কাছে তাদের নেতা আমির হোসেন আমুর জন্মদিন মানেই বিশেষ কিছু, যা আসে প্রতিবছরে মাত্র একবার।
কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এমাদুল হক মনির এক শুভেচ্ছা বর্তায় লিখছেন, ‘শুভ জন্মদিন প্রিয়নেতা, প্রিয় অভিভাবক। জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত সহচর, দক্ষিণাঞ্চলবাসীর আওয়ামী রাজনীতির অন্যতম অভিভাবক, আমার রাজনীতির একমাত্র অভিভাবক, জননেতা আমির হোসেন আমু। জন্মদিনে কাঠালিয়া বাসী এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে জানাই অবারিত সুন্দরের নিরন্তর শুভেচ্ছা।’
এমাদুল হক মনির বলেন, ‘কিছু কিছু মানুষ আছে যারা পৃথিবীতে আসেন তাদের চারপাশের সবকিছুকে আলোকিত করতে। তাদের উপস্থিতি সবাইকে আনন্দে মাতিয়ে রাখে। সামাজিক,পারিবারিক কিংবা রাজনীতির মাঠে বন্ধনে বেঁধে রাখে আশপাশের মানুষ গুলোকে। পঙ্কিলতা যাদের কখনও স্পর্শ করে না। মন হয়না কখনো কলুষিত। নিষ্পাপতাই যাদের প্রধান শক্তি, ঠিক সেরকম একজন অতি সাধারন মানুষ আমাদের সর্বজনীন নেতা আমির হোসেন আমু। যে কিনা দলমত নির্বিশেষে সকলের বিপদে এগিয়ে আসে। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যরা তাকে অন্যতম একজন অভিভাবক হিসেবেই মনে করেন। আমরা তার সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’
এছাড়াও , কাঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান উজির সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান , দপ্তর সম্পাদক আবুবক্কর ছিদ্দিক জুয়েল, ইউপি চেয়ারম্যান হারুন আর রসিদ জমাদ্দার, বাবু শিশির দাস, আমিরুল ইসলাম ফোরকান সিকদার, মাহমুদুল হক নাহিদ সিকদার, মিঠু সিকদার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাঈদ আহম্মেদ জিসান সিকদার ও সাধারন সম্পাদক মাসুদ খান পৃথক পৃথক বার্তায় তাদের প্রিয় এই নেতাকে শুভেচ্ছা জানান।
উল্লেখ্য, আমির হোসেন আমু ১৯৪১ সালের ১৫ নভেম্বর ঝালকাঠির এক স¤্রান্ত পরিবারে তার জন্ম। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে কারাবরণ করেন। তিনি ১৯৫৯ সালে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ভাষা দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মনোনীত হন। ১৯৬৫ সালে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৬৮ সালে বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬২ সালের সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক হন। আমির হোসেন আমু ১৯৬৫ সালে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের অন্যতম রূপকার হিসেবে প্রচারের দায়িত্ব পালন করেন। আমির হোসেন আমু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর পাঠ শেষ করে আইন পেশার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত হন। তিনি ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে বরিশাল সদর আসন থেকে জয়লাভ করেন। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে তিনি বরিশাল, খুলনা, পটুয়াখালী, যশোর ও ফরিদপুরসহ পাঁচ জেলায় মুজিব বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে ঝালকাঠি ও রাজাপুর নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন আমির হোসেন আমু এবং সদ্য সাবেক শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।










