নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীর এবং সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে সাবাড় করে ফেলছে সংঘবদ্ধ চক্র। এই চক্রটি নদী তীর সংরক্ষণের বøকও তুলে বিক্রি করে দিচ্ছে।
সদর উপজেলার তালতলী, চরমোনাইর গিলাতলি-পশুরকাঠী, চরকাউয়ার পামের হাট এলাকায় ফসলি জমি কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। ফলে নদীর ভাঙন তীব্র আকার দেখা দিয়েছে।
বরিশালের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ হোসেন জানান, কীর্তনখোলা নদী তীরের চরমোনাই ও চরকাউয়ার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়। ওই এলাকার ফুজি এবং মিনা ইটভাটা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই মাটি কেটে নিচ্ছে।
চরমোনাই ইউপি সদস্য মামুন গাজী বলেন, চরমোনাইর গিলাতলি-পশুরকাঠী এলাকায় মাটি কেটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। নদীর পাড় থেকে ধানি জমির এই মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে একদল দুর্বৃত্ত।
এ দিকে নগরীর ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন কীর্তনখোলা তীরে যে বাধ দেওয়া হয়েছিল সেখানকার বøক খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এতে বাধ ভেঙে ওই এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। একই খবর পাওয়া গেছে, লামছড়ি ও চরআবদানী এলাকায়।
কীর্তনখোলা তীর ঘেঁষা পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন পরিষদের আহ্বায়ক মুনাওয়ারুল ইসলাম অলি বলেন, আমাদের এই এলাকা বহু আগ থেকেই অবহেলিত। নদীভাঙন সবচেয়ে বড় সমস্যা চরকাউয়া, চরমোনাই, সায়েস্তাবাদ, চরবাড়িয়া ইউপির। কিন্তু কীর্তনখোলা নদীর দুই পারের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটার দুর্বৃত্তরা। উপজেলা প্রশাসনের এ বিষয়ে কোনো ভূমিকা নেই। একদিকে ভাঙন বাড়ছে, অপরদিকে মাটি আর বালু কেটে সাবাড় করছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস বলেন, ত্রিশগোডাউন সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী রক্ষায় বøক ফেলে যে বাধ দেওয়া হয়েছিল তার একাংশ প্রয়াত মেয়র হিরনের সময় সিটি করপোরেশন এবং বাকি অংশ পাউবো করেছে। তাদের খতিয়ে দেখতে হবে যে সব স্থান থেকে বøক তুলে নেওয়া হয়েছে তা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কি’না।
এ ব্যাপারে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান বলেন, গত বছরও তারা নদী তীরে মাটি কাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নিয়েছেন। এবারও নদী ভাঙন রোধে একই ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এ জন্য কোনো কোনো স্থানের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।










