বরিশাল প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের এক কিশোরীকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। নিখোঁজের তিনদিন পর ঢাকা থেকে ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ তিন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
আটকরা হচ্ছে- চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার কাদির মাঝীর মেয়ে হীরা বেগম, তার ছোট বোন সোহাগী বেগম ও তার স্বামী আনোয়ার হোসেন। তাদের মধ্যে হীরা বেগম মামলার আসামী না হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান তাদের আটক করেন। বুধবার এ ঘটনায় মামলা হয়। পরে আটকদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, গণধর্ষণের শিকার কিশোরী মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশের পাহারায় তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
রঘুনাথপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক বিধবা সাংবাদিকদের জানান, শনিবার (২৮ আগস্ট) সকালে ওই কিশোরীকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তার মা শাসন করেন। এতে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ওই কিশোরী। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে একই এলাকার সোহাগী বেগম ও তার স্বামী আনোয়ার হোসেন ওই কিশোরীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে লঞ্চে করে ঢাকায় নিয়ে একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়।
তিনি আরও জানান, ঢাকায় নেওয়ার পথে একই এলাকার আলী হোসেন নামে এক যুবক তাদের লঞ্চে দেখতে পান। পরবর্তীতে তিনি বিষয়টি ওই কিশোরীর পরিবারকে জানালে তারা সোহাগী বেগমের কাছে মেয়ের খোঁজ জানতে চান। কিন্তু সোহাগী বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করলে ওই কিশোরীর মা সোমবার (৩০ আগস্ট) সোমবার চাঁদপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার ও আসামিদেরকে আটক করে। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরী জানান, সোহাগী বেগম তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে যান। এরপর আনোয়ার হোসেন তাকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে ধর্ষণ করেন এবং তাদের চক্রের আরো পাঁচজন সদস্যের হাতে তুলে দেন। পরে ওই পাঁচজনও তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে।
চাঁদপুর মডেল থানার এসআই রাশেদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার ও পাচারকারীদের আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে ওই কিশোরী পুলিশের পাহারায় চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মামলার তদন্ত ও পাচারকারী চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে।’










