জনতার খবর ডেক্সঃ
ঝালকাঠির কাঠালিয়ার আওরাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষ ও যুবলীগ নেতার বাসা থেকে কৃষি প্রণোদনার ধান বীজ ও সার জব্দ করেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নেছার উদ্দিন।
আজ ০৪ জুন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আওরাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষ থেকে ১০ কেজি ওজনের ৬ প্যাকেট ব্রি-৪৮ ধানের বীজ ও আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা দিপক হাওলদারের পশ্চিম ছিটকী (সাতানি বাজার) এর ভাড়া বাসা থেকে এমওপি ৫ প্যাকেট ও ডিএপি ২ বস্তা রাসায়নিক সার এবং ব্রি-৯৮ দুই প্যাকেট, ব্রি-৪৮ চার প্যাকেট ধান বীজ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামাল থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মুরাদ হোসেন জানান, “উদ্ধারকৃত মালামাল এপ্রিল মাসে কৃষকদের মাঝে বিতরণকৃত কৃষি প্রণোদনার সার ও বীজ। এ গুলো আমরা কৃষকদের কাছে বিতরণ করেছি। তবে কি ভাবে এখানে এলো এবং পাওয়া গেলো তা আমাদের জানা নেই”।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম জানান, “খবর পেয়ে ইউএনও স্যার সহ আমরা ঘটনা স্থানে যাই। আওরাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষ থেকে ৬ প্যাকেট ব্রি-৪৮ ধানের বীজ এবং ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সাতানি বাজারের দিপক হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির বাসা থেকে ৫০ কেজির সাত বস্তা রাসায়নিক সার ও ৬ প্যাকেট ধানের বীজ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ মালামাল হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে আওরাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মিঠু সিকদার জানান, “১০ কেজির ৬ প্যাকেট ধানের বীজ একজন চেয়ারম্যান কি কারনে চুরি করবেন ? এ ধানের বীজের দামই বা কত ? এটা কিভাবে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এসেছে বা কারা এনেছে তা আমার জানা নাই। আমি এখন নির্বাচনী প্রচারনায় ব্যস্ত আছি। আগামী ৯ জুন নির্বাচন শেষ হওয়ার পরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যদেরকে এ ব্যাপারে যে কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করবো”।
যুবলীগ নেতা দিপক হাওলাদার জানান, “আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ হেলাল উদ্দিন সার ও বীজ আমার কাছে রেখে গেছেন। তখন তিনি আমাকে বলছেন কয়েকজন কৃষকের এই মালামাল। দুই তিন দিনের মধ্যে তাদের মাঝে বিতরণ করবো”।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নেছার উদ্দিন জানান, “আমি ঘটনাস্থল থেকে স্যার ও ধানের বীজ জব্দ করেছি। নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে মামলা করবেন”। মামলার অভিযোগ কার কার বিরুদ্ধে হতে পারে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও নেছার উদ্দিন জানান, “যেহেতু ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে ধানের বীজ পাওয়া গেছে, নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং সাতানী বাজারের দিপক হাওলাদারের কাছে সার ও ধান বীজ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হতে পারে। তবে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে”।
কাঠালিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, কৃষি প্রণোদনার কিছু সার ও বীজ জব্দ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে মামলা করার কথা জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ তারা দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।










