কাঠালিয়া প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের আমরিবুনিয়া গ্রামের এইচকে বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের খালে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন যাবৎ ভাঙ্গা থাকায় ভোগান্তিতে রয়েছেন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পর্যটক ও এলকাবাসী।
উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র ছৈলার চরে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা আমিরবুনিয়া ছৈলার চর সড়ক। এ সড়কের মাঝ পথেই রয়েছে এইচকে বালিকা বিদ্যালয়ের সামনের খালের উপর এ ভাঙ্গা সেতুটি। এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন ছৈলার চর পর্যটন কেন্দ্র, এইচ কে বালিকা বিদ্যালয়, হেতালবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসা, হেতালবুনিয়া ও মশাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাঠালিয়া সদরে যাতায়াত করে শত শত মানুষ। ঝুঁকিপূর্ন ব্রিজটি দিয়ে পাড় হতে হচ্ছে প্রতিদিন এ সকল পথচারীদের। যেকোন মুহুর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
আমরিবুনিয়া খালের উপর প্রায় ১২ বছর পূর্বে নির্মিত হয়েছে এ সেতু। গত আট বছর পূর্বে সেতুটির মাঝ খানের অংশটি ভেঙ্গে যায়। ফলে পর্যটক বা প্রশাসনের গাড়ী যাতায়াত করতে পারছে না। ঝুঁকি নিয়ে অটোরিক্সা ও মটর সাইকেল চলাচল করছে। এক যুগ সময় পেরিয়ে গেলেও জরাজীর্ণ সেতুটির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণের সময় অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং ঢালাইতে পর্যাপ্ত উপকারণ ব্যবহার করা হয়নি। তাই সেতুটির ঢালাই ভেঙ্গে ভেঙ্গে নিচে পড়ে যাচ্ছে এবং বর্তমানে বড় একটি অংশ ভেঙ্গে নিচে পড়ে গিয়ে রড বের হয়ে গেছে। সেতুর বেশির ভাগ অংশ ধসে যাওয়ায় এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।
আমরিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হেলাল মাস্টার জানান, সেতুটি সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। প্রতিদিনই সেতু দিয়ে শত শতে পর্যটক মোটরসাইকেল, অটো, মাইক্রো সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মোঃ সোহেল হোসেন তার পরিবার নিয়ে অটো রিক্সায় করে ছৈলারচর যাচ্ছেন। তিনি জানান এই সেতুর এমন অবস্থা জানলে এখানে আসতাম না। তাছাড়া রাস্তার অবস্থাও ভালো না, ধুলোবালুতে সব একাকার।
স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল বলেন, প্রায় সময়ই থানার বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা এ ব্রিজের ভাঙ্গা অংশে স্থানীয়দের কাছ থেকে কাঠ নিয়ে তা দিয়ে ছৈলার চরে যায়। অথচ সেতুটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। কয়েক বছর যাবৎ শুনি সেতুটি মেরামত করা হবে, কিন্তু মেরামত কবে হবে তা কেউই বলতে পারে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা সেতুটি দ্রæত মেরামতের দাবি জানিয়েছে।
কাঠালিয়া উপজেলা প্রকৌশলী দিপুল কুমার বিশ্বাস জানান, ব্রিজটি নির্মানের জন্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব শিগ্রই নির্মান করা সম্ভব হবে।










