হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। তার সঙ্গে একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দোল্লাহিয়ান ও পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর মালেক রহমাতি।
প্রেসিডেন্ট রাইসির হেলিকপ্টারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নরসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন। তারাও নিহত হয়েছেন এই দুর্ঘটনায়।
তিন বছর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইব্রাহিম রাইসি। ৬৩ বছর বয়সী রাইসিকে মনে করা হতো দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে। পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের জোলফা এলাকায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি।
এদিকে ২০২১ সাল থেকে ইরানের পররাষ্টমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শুরু করেন হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান। গাজা যুদ্ধ ঘিরে গত কয়েক মাসে ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ৬০ বছর বয়সী আব্দোল্লাহিয়ান। পশ্চিমা দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন তিনি। জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক হিসেবে কয়েক দশক ধরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন আব্দোল্লাহিয়ান। তবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণে তিনি সমধিক পরিচিত।
ওই হেলিকপ্টারে আরো ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনির প্রতিনিধি ও তাবরিজের ইমাম সৈয়দ মোহাম্মদ আলি আলে হাশেম। পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের ভ্যালি-ই-ফকিহের প্রতিনিধিও ছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্টের সফর সঙ্গি পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর মালিক রাহমাতিও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। ওই হেলিকপ্টারে প্রেসিডেন্ট প্রোটেকশন ইউনিটের কমান্ডার সরদার সৈয়েদ মেহদি মৌসভি ছাড়াও কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী এবং ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনায় তারা সবাই নিহত হয়েছেন।
রোববার (১৯ মে) আজারবাইজানের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের যৌথভাবে নির্মিত একটি বাঁধ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। সেখান থেকে ফেরার পথে পূর্ব আজারবাইজানের জোলফা এলাকার কাছে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রেসিডেন্ট ও তার সফর সঙ্গিদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়ে সবাই নিহত হন।
সূত্র: আল-জাজিরা












