ইউক্রেনের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে অন্তত ৭ লাখ শিশুকে রাশিয়ায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাশিয়ার একজন রাজনীতিবিদ। গ্রিগরি কারাসিন নামের ওই রাজনীতিবিদ রুশ পার্লামেন্টের ফেডারেশন কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক কমিটির প্রধান বলে জানিয়েছে স্কাই নিউজ।
গতকাল রোববার গ্রেগরি কারাসিন তাঁর টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া পোস্টে বলেন, ইউক্রেনের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চলমান বোমা হামলা ও গোলাগুলি থেকে বাঁচতে কমপক্ষে ৭ লাখ শিশু আমাদের এখানে আশ্রয় নিয়েছে।
তবে রুশ কর্তৃপক্ষের এ দাবির বিরোধীতা করেছে ইউক্রেন। কিয়েভ কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিশুয়া আশ্রয় নেয়নি, বরং রুশরা জোর করে তাদের তুলে নিয়ে গেছে।
গ্রেগরি কারাসিন তাঁর পোস্টে লিখেছেন, রাশিয়া ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো নয়। আমরা শিশুদের যত্ন নিই ও তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করি।
রাশিয়ার এই জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য আরও বলেন, ইউক্রেনের শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ‘অপরাধ’ তদন্তের জন্য আমরা একটি সংসদীয় কমিশন গঠন করেছি। কমিটির প্রথম বৈঠক গত ৩০ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। এরপর প্রথম কয়েক মাসের মধ্যেই যুদ্ধকবলিত অঞ্চলগুলো থেকে অনেক শিশুকে রুশ ভূখণ্ডে আনা হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ২০২২ সালের জুলাইয়ে রাশিয়া ২ লাখ ৬০ হাজার শিশুকে ‘জোরপূর্বক নির্বাসিত’ করেছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে বলেছে, গত এক বছরে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের ১৩৬ শিশু নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের আক্রমণে রাশিয়ার ৮০ শিশু নিহত হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ৪৭৭ শিশু মারা গেছে বলেও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলেছে, জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরব হয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছে অনেক সংস্থা। কিন্তু ইউক্রেন এবং রাশিয়া কোনোপক্ষই এই বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।












