মঠবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ধুপতি গ্রামে ৬ পরিবারের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য কোন রাস্তা ছিল না। অতঃপর গত ২৫ মে ভুক্তভোগীরা পথের দাবিতে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মঠবাড়িয়া শাখা বরাবরে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়: ছয়টি পরিবারের ২০-২৫ জন মানুষের বসতঘর হতে অন্যত্র যাতায়াতের জন্য কোন পথ না থাকায় তারা কখনো মাঠ থেকে, পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে, এবং কখনো খাল সাতরে চলাচল করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগীদের নিজস্ব জমিতে রাস্তা না থাকায় এবং পার্শ্ববর্তী জমির মালিকগণ রাস্তার জন্য জমি না দেয়ায় তারা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। অভিযোগটি আমলে নিয়ে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মঠবাড়িয়ার শাখার সভাপতি নাজমুল আহসান কবির ও সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা হোসাইনের নেতৃত্বে সহ-সভাপতি মোঃ আইউব আলী হাওলাদারের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল প্রথমে গত ২৯ মে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, এবং উভয় পক্ষদের নিয়ে পরপর কয়েকটি বৈঠক করে ভুক্তভোগীদের চলাচলের স্বীকৃত রাস্তা তৈরীর সিদ্ধান্তে একটি আপোষ মীমাংসা করেন।
সে অনুযায়ী ২৬ জুন, সোমবার সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মঠবাড়িয়ার শাখার সরাসরি তত্ত্বাবধানে ওই ভুক্তভোগীদের চলাচলের জন্য ৪ ফুট চওড়া, প্রায় ১৭০ ফুট দৈর্ঘ্য রাস্তা নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মঠবাড়িয়া শাখার সভাপতি নাজমুল আহাসান কবির, সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা হোসাইন, সহ-সভাপতি আইউব আলী হাওলাদার, আবুল হোসেন, নির্বাহী সদস্য মাসুদা আক্তার, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও তাজউদ্দিন আহমেদ টুকু নির্মাণাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় সংবাদকর্মী, ভুক্তভোগী ও প্রতিপক্ষে লোকজনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী হাসেন আলী বলেন: আমরা আমাদের চলাচলের জন্য একটি পথের দাবিতে সকলের ধারে ধারে ঘুরেছি বৃদ্ধ বয়সে এসে শেষ পর্যন্ত সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এর হস্তক্ষেপে আমাদের অধিকার আদায় হলো এজন্য আমরা অত্যন্ত আনন্দিত আমাদের বাড়িতে যাতায়াতের কোন রাস্তা ছিল না, আমরা ৬ টি পরিবার দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় যাবত চরম ভোগান্তির মধ্যে জীবন যাপন করেছি। এখন অন্তত একটি পথ তৈরি হলো এতে করে আমরা অন্যান্যদের মতো শুকনো পায়ে হেঁটে বাড়ি থেকে প্রধান সড়কে যেতে পারবো।
প্রতিপক্ষ নুরুল ইসলাম, নূর হোসেন ও আঃ হক বলেন: ভুক্তভোগী হাসান আলী সহ তাদের পরিবার বর্গের চলাচলের পথ না থাকায় সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মধ্যস্থতা ও মানবিক বিবেচনায় আমরা ওই পরিবার বর্গের চলাচলের রাস্তার জন্য জমি বরাদ্দ দিলাম, আজ থেকে তারা রাস্তা দিয়ে চলাচল করবে তাদের চলাচলে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না।
সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মঠবাড়িয়া শাখার সভাপতি নাজমুল আহসান কবির বলেন: মানুষের মৌলিক প্রয়োজনগুলোর মধ্যে চলাচলের পথ বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ, ভুক্তভোগী পরিবার গুলোর অধিকার আদায়ে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন তাদের পাশে থেকেদীর্ঘ ২৫ বছরের ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা ও চলাচলের জন্য রাস্তা রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তাতে সহায়তাকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষসহ সকলেকে ধন্যবাদ জানাই। এছাড়াও এ অঞ্চলের মানুষের সার্বিক মানবাধিকার রক্ষা ও প্রতিষ্ঠার স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন।










