পূর্ব–মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম–মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ঘূর্ণিঝড় রিমালে পরিণত হয়েছে।
এ জন্য মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদসংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আজ রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে এরই মধ্যে উপকূলের কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ঢাকার দিকেও মেঘ চলে এসেছে। আগামীকাল (রোববার) দুপুরের পর থেকে উপকূলীয় অঞ্চলে রিমালের প্রভাব শুরু হবে।’
এর আগে আজ দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মডেল বিশ্লেষণ করে যেসব তথ্য পাচ্ছি, তাতে এটি আজ রাত ৯টার পর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঝড়ের শক্তি বাড়ার আশঙ্কা আছে। যেহেতু সাগরের মাঝ বরাবর দিয়ে আসছে, তাতে ডানে-বামে চতুর্দিকে সে শক্তি সঞ্চয় করতে পারছে। যদি ভারতীয় উপকূল ঘেঁষে আসত তবে শক্তি কম থাকত।’
আজিজুর রহমান আরও বলেন, ‘এটি এখন যে অবস্থায় আছে, সেখান থেকে আরও শক্তি সঞ্চয় করে সিভিয়ার বা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে আগামীকাল (রোববার) সকালে। বিভিন্ন মডেল আমাদের দেখাচ্ছে যে এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল উপকূল—পটুয়াখালীর খেপুপাড়া ও পশ্চিমবঙ্গের দ্বীপগুলোর মাঝ দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে শুরু হবে সেটি।’
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রিমালের প্রভাবে সারা দেশেই ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হবে। ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ভূমিধসের সতর্কবার্তা দেওয়া হবে। উপকূলের খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা,পটুয়াখালী, নোয়াখালী, ভোলা, বরিশাল—এসব জেলায় রিমালের সরাসরি প্রভাব থাকবে। এ ছাড়া কুষ্টিয়া, ফেনী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার—এসব জেলায় বৃষ্টিপাত থাকবে।












