বরিশাল প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির রাজাপুরে প্রধান শিক্ষক ঈসমাইল হোসেন ও সন্ত্রাসী সরোয়ার খান ওরফে প্রবাসী সরোয়ারের বিরুদ্ধে সরকারি খালে পাইলিং করে বালি ভরাট করে দখল করার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের আরুয়া সোনারগাঁও গ্রামে। দখলকারী ঈসমাইল হোসেন স্থানীয় জে. কে. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সরোয়ার হোসেন খান ঐ এলাকার নুরুল ইসলাম খানের ছেলে। তিনি (সরোয়ার) এলাকাবসীর কাছে সন্ত্রাসী ও আতঙ্ক সরোয়ার হিসেবে পরিচিত।
সরজমিনে দেখাগেছে, আরুয়া সোনারগাঁও জে. কে. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সামনে থেকে প্রবাহমান শতবছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী মাদারতলা খালের অগ্রভাগে খুঁটি আর নেট দিয়ে পাইলিং করে বালি দিয়ে ভরাট করে নিয়েছে তারা (ঈসমাইল ও সরোয়ার)। যদিও তাদের দাবি, এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মান করছে তারা। তবে স্থানীয় কৃষকদের কাছে এটি গলার কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আরুয়া গ্রামের পাঁচশতাধিক পরিবার কৃষি কাজে এ খালটি ব্যবহার করে আসছে। খালটি দখলদারদের কবলে পড়ায় চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে এই গ্রামের কৃষকরা।
জানা যায়, জাঙ্গালিয়া নদী থেকে প্রবাহমান প্রায় ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর খালটি আরুয়া সোনারগাঁও গ্রাম হয়ে কয়েক এলাকার সাথে বিস্তৃত। খালটির দুপাশে কয়েকটি গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবারের বসবাস রয়েছে। এখানকার প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষ জেলে ও কৃষক কাজের সাথে সম্পৃক্ত। এই গ্রামে উৎপাদিত কৃষি ও সবজি পণ্য স্থানীয়দের চাহিদা পূরণ করে পাশ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার চাহিদা মিটিয়ে আসছে। আর এ কৃষকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হলো মাদারতলা খাল। খালের পানি হাতের নাগালে থাকায় সেচ কাজে ব্যবহার করে সহজেই কৃষিকাজ করতে পাড়ছেন কৃষকরা। উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে আসছে খালটি। আবার অনেক জেলে খাল থেকে মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহ করে আসছেন।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, কৃষিকাজ ও গ্রামের গৃহস্থদের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটি ক্রমাগত তীর ভরাট, বেপরোয়া দখল ও দূষণের কবলে পড়ে মরা খালে পরিণত হতে চলছে। তাদের দাবি, এখন খালটি রক্ষা করা না গেলে একসময় অস্তিত্ব সংকটে পড়বে খরস্্েরাতা খালটি।
স্থানীয় সমাজ সেবক এইচ এম জাকির হোসেন বলেন , প্রবহমান খালটি এলাকার প্রভাবশালী সরোয়ার নামের এক লোক ভরাটের মাধ্যমে দখল করে রাখছে। খাল পাড়ের এসব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে এবং খালটি খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনলে এলাকার কৃষি কাজের জন্য সুবিধা হবে।
স্থানীয় কৃষক আলী হাওলাদার জানান, এ খালটির করুণ দশা করে রাখছে দখলকারী। এখন তার হাত থেকে রক্ষা না করতে পারলে ভবিষাৎতে আমাদের কৃষিকাজের বাঁধা হবে এটি।
অভিযোগ অস্বীকার দখলকারী সরোয়ার খান বলেন, আমি গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করতে এটি ব্যবহার করছি। আমি সরকারি খাল ভরাট করিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন বলেন, খালটি এলাকার কৃষকরা কৃষিকাজে শতবছরের বেশি সময় ব্যবহার করে আসছে। সরকারী খাল পাইলিং করে ভরাট করা উচিত হয়নি। আমি মৎস অফিসে বিষয়টি অবগত করবো।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান খান বলেন, আমি স্পটে এসে দেখবো। আমি আসতেছি এবং সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেব।










