বরিশাল প্রতিনিধিঃ
ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ মোকাবেলায় দখিণের উপক‚লীয় জেলাগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। বরিশালের ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা জেলায় জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রস্তুতি সভা করে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি এলাকাবাসীকে সচেতন করার জন্য মাইকিং চলমান রয়েছে। একই সাথে এসব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
প্রস্তুত রয়েছে ৩২ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক \ ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় বরিশাল বিভাগজুড়ে প্রস্তুত হয়ে কাজ শুরু করেছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। এরইমধ্যে উপক‚লীয় নদী তীরবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তারা বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ঘ‚র্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) বরিশালের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, ‘গোটা বরিশাল বিভাগে তাদের ৩২ হাজার ৫২০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন। যারা এরইমধ্যে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কার্যক্রম শুরু করেছেন। সেই সঙ্গে সাইক্লোন শেল্টারে সাধারণ মানুষকে নেওয়ার জন্যও কাজ করবেন তারা।’
অপরদিকে বরিশাল জেলায় ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এরইমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহকারী পরিচালক গোলাম কবির।
প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র \ ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় বৃহত্তর বরিশাল বিভাগে বিভাগে ৩ হাজার ৯৭৪টি আশ্রয়কেন্দ্র এরইমধ্যে আশ্রয়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যার মধ্যে বরিশাল জেলায় রয়েছে ৫৪১টি, বরগুনা জেলায় ৬৪২ টি, পটুয়াখালীতে ৭০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ২৬ টি মুজিব কেল্লা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও ভোলা জেলায় ৭৪৬ টি, পিরোজপুরে ৪০৭ টি ও ঝালকাঠিতে ৬২ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চিকিৎসা সেবায় মেডিকেল টিম \ ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ মোকাবিলায় বরিশাল বিভাগের প্রতিটি জেলায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। বরিশালে ১১টি, ভোলায় ৯৮টি, পিরোজপুরে ৬৩টি, বরগুনায় ৪২টি, পটুয়াখালীতে ৭৬টি ও ঝালকাঠিতে ৩৮ টি মেডিকেল টিম গঠন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে মোখা মোকাবিলায় প্রতি জেলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং স্যালাইনসহ বিভিন্ন ওষুধের পর্যাপ্ত যোগান তাদের রয়েছে।
এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ মোকাবিলায় প্রতিটি জেলায় শুকনা খাবার, চাল, নগদ টাকা, কম্বল, ডেউটিনসহ ত্রাণসামগ্রী হিসেবে মজুদ রাখা হয়েছে।










