বরিশাল প্রতিনিধিঃ
রাত পোহালেই দেশে পালিত হবে কোরবানির ঈদ। তাই শেষ সময়ে জমে ভিড় দেখাগেছে বরিশালের পশুর হাটগুলোতে। তবে গরুর দাম শোনার পর ক্রেতাদের বেশিরভাগই দর্শকে পরিণত হচ্ছে। আর গরুর দাম গতবারের চেয়ে অস্বাভাবিক পরিমাণ বেশি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা হচ্ছে না বলে জানান বেপারীরা। মঙ্গলবার (২৭ জুন) বরিশালের স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলো ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে বরিশালে সবচেয়ে বড় পশুর হাট চরমোনাই হাটে ঘুরে দেখা যায়, মাঝারি পশুর চাহিদা বেশি, তাই এর দামও বেশি। বিক্রেতারা বলছে, গো-খাদ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে কোরবানির হাটগুলোতে। ফলে গরু বেচাবিক্রি তেমন নেই। চরমোনাই পশুর হাটের পাশাপাশি বিভাগের ৬ জেলার ২৬২ টি হাটেই একই অবস্থা বলে জানিয়েছে বিভিন্ন জেলা উপজেলার সংবাদদাতারা।
ক্রেতারা বলছেন, গরুর দাম বেশি হওয়াতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। তবে শেষের দিকে গরুর দাম কিছুটা কমবে বলে আশা তাদের।
এদিকে হাটগুলোর পাশাপাশি খামারগুলোতে দেশি গরুর পাশাপাশি দেখা মিলছে শাহিওয়াল, দেশাল, আরসিসি, নেপাল, ফিজিয়ান, অস্টেলিয়ান ,পাকিস্তানি শাহিওয়াল । খামারগুলোতে লাইভওয়েট মেশিনে মাপের মাধ্যমে কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে পশু। তবে এতেও গতবছরের তুলনায় কেজি প্রতি দাম বাড়ানো হয়েছে ১০০ টাকা। খামারিরা জানান, এবার ভারতীয় গরু না আসায় কোরবানির হাট স্থানীয় গরুর দখলে আছে।
বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা ডা. মো. নূরে আলম বলেন, ‘বরিশাল বিভাগে এ বছর পশুর চাহিদা রয়েছে ৪ লাখ। সেখানে বিভাগের ২৩ হাজার খামারি লালন-পালন করেছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ পশু। এতে একটা সময় বিভাগের হাটগুলো ভারতীয় গরুর দখলে থাকলেও; বর্তমানে তা স্থানীয় গরু দখল করে নিয়েছে। তিনি আরও জানান, এতে লাভবান হচ্ছে খামারিরা। আর হাটগুলোতে কোরবানিযোগ্য পশুর সুস্থতা পরীক্ষা করতে মাঠে আছে দেড় শতাধিক ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম।’
ছুরি-চাপাতির ব্যবসা \ পশু জবাই থেকে শুরু করে কাটার জন্য দরকার হয় ধারালো ছুরি, চাপাতি, দা, বটিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। এজন্য এই ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই সরগরম হয়ে উঠে কামারপাড়া। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে অন্যান্য জিনিসপত্রের দামের উত্তাপের আঁচ লেগেছে এখানেও। এবার প্রতিটি সরঞ্জামের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। শেষ মূহূর্তে বরিশালের সরঞ্জাম কেনাবেচার হাট জমজমাট দেখাগেছে। মঙ্গলবার (২৭ জুন) নগরীর বাজার রোড, বাশেঁর হাটখোলার ও চাঁদমারী এলাকার কামারপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে গরু জবাইয়ের ছোরা, দেশি-বিদেশি চাপাতি, বিভিন্ন সাইজের চাকু।
দোকানিরা জানান, মান ও আকারভেদে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে লোহায় তৈরি এসব পণ্য। তবে পিস হিসেবে কিনতে দেখা গেছে ক্রেতাকে।
গাছের গুঁড়ি ও চাটাই \ কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া ছোলার জন্য ধারালো ছুরি, মাংস কাটার জন্য চাপাতি তেমনি হাড় কাটার সুবিধার্থে প্রয়োজন হয় গাছের গুঁড়ি। আর এসব রাখার জন্য দরকার পড়ে চাটাইয়ের। গ্রামে এসবের অনেক কিছু হাতের নাগালে থাকলেও বরিশাল নগরীতে কোরবানি দেওয়া নাগরিকদের সবকিছুই কিনতে হয়। ফলে কোরবানির সময় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এসব নিয়ে হাজির হন অলিতে গলিতে। কিন্তু এসবের দামটা বেশ চড়াই থাকে সবসময়।
মঙ্গলবার (২৭ জুন) নগরীর বাজার রোড, রুপাতলি, বাংলাবাজার, চৌমাথা এলাকায় দেখা গেছে গুঁড়ি ও হোগল পাতার তৈরি চাটাইসহ নানান সামগ্রী নিয়ে বসে আছেন মৌসুমের বিক্রেতারা। নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে এসব গুঁড়ি ক্রয় করছেন।
বিক্রেতারা বলছে, পশু জবাইয়ের পর পরিচ্ছন্নভাবে মাংস ভাগ-বাটোয়ারা টুকরা করতে গাছের গুঁড়ি বেশি প্রয়োজন হওয়ায় সর্বত্রই এর কদর বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে তেঁতুল গাছের গুঁড়ির কদর রয়েছে সবচেয়ে বেশি। গাছের গুঁড়ি মূলত তেঁতুল, নিম, করইসহ বিভিন্ন গাছের হয়। এরমধ্যে ক্রেতাদের কাছে তেঁতুল গাছের গুঁড়ি রয়েছে সবার উপরে। এক একটি গাছের গুঁড়ি ১ ফুট বা সোয়া ফুট লম্বা রাখা হয়। প্রতিটি গাছের গুঁড়ি ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্বরুপকাঠী থেকে আসা কাঠ ব্যবসায়ী জলিল বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে তেঁতুল গাছ পাওয়া বড়ই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। ফলে তেঁতুল গাছের তৈরি গুঁড়ির দাম একটু বেশি নেয়া হচ্ছে।’
অপর দিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে বসেছেন চাটাইয়ের হাট। হোগল পাতার সংকট থাকায় চাটাইয়ের দাম তুলনামূলক একটু বেশি। বিভিন্ন চরাঞ্চলে তেমন হোগলা না জন্মানোর কারনে ঠিকমত হোগল পাতা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তারা বিভিন্ন উপকুলীয় এলাকা থেকে হোগলপাতা ক্রয় করে আনা ও বোনা পর্যন্ত খরচের পরিমান বেড়ে গেয়ে ফলে বড় সাইজের একটি চাটাই বিক্রি করছেন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। আর মাঝারি সাইজেরটা বিক্রি করছেন ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।










