বরিশাল প্রতিনিধিঃ
মসজিদ, মন্দির, অফিস, আদালত, হাসপাতাল কিংবা বাসাসহ সর্বত্রই মশার উপদ্রবে নগরবাসীর জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রাতের পাশাপাশি দিনেও মশার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না কেউ।
অনেক বাসায় মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দিনের বেলায় মশারি টানিয়ে রাখা হচ্ছে। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে নগরীর সর্বত্র মশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কোথাও স্বস্তিতে কাজ করা যাচ্ছেনা। মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মাঝে মধ্যে পাড়া-মহল্লায় বিকট শব্দের ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটানো হলেও শব্দ দূষণ ব্যতীত তেমন কোনো কাজ হচ্ছে না। বরং মশা এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় ছড়িয়ে পরছে। মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস না করে এভাবে ধোঁয়া দিয়ে মশা নিধন করা যে সম্ভব নয়, তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
নগরীর অনেকেই কেউ নিজের হাত ও পায়ের লাল দাগ দেখিয়ে বলেন, এটা আবার ডেঙ্গু নয়তো। এমনকি সামান্য শরীর গরম হলেই ম্যালেরিয়া আতংকে ছুটে যাচ্ছেন চিকিৎসকদের কাছে। বরিশালের প্রধান দুটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও রোগীদের মাঝেও এখন মশা আতঙ্ক ভর করেছে। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মনিরুজ্জামান শাহিন বলেন, গত ২/৩ মাসে যেন পাল্লা দিয়ে মশার উপদ্রব্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মশার জ্বালাতনে রমজান মাসে ঠিকমতো নামাজ পর্যন্ত আদায় করা যাচ্ছেনা। আবার অফিসে কিংবা চেম্বারেও বসা যাচ্ছেনা। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের পাশের ডোবা ও নালাগুলোতে অসংখ্য মশার লাভা। এতে রোগীদের সুচিকিৎসাও ব্যাহত হচ্ছে।
বরিশাল সদর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মীর্জা লুৎফর রহমান বলেন, শরীরে সামান্য গরম অনুভূত হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য রোগীরা ম্যালেরিয়া আক্রান্তের শংকায় হাসপাতালে আসছেন। বর্তমান পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, মশার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ হয়ে হাসপাতালের স্টাফ থেকে শুরু করে রোগীদের মাঝেও ডেঙ্গু– ও ম্যালেরিয়া আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে। তিনি আরও বলেন, মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে দিনের বেলায়ও কয়েল জ্বালিয়ে অফিস করতে হয়।
বরিশালের সামাজিক আন্দোলনের নেতা কাজী মিজানুর রহমান নগরীর চারিপাশের ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করা ও মশার লাভা ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিবেশ আন্দোলনের নেতা এনায়েত হোসেন শিবলুসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে জরুরি ভিত্তিতে নগরীর খালগুলো পরিস্কারের দাবি করেছেন।
তারা আরও জানিয়েছেন, নগরীর সাতটি খাল ভরাট হতে হতে এখন মশার অভায়ারণ্যে পরিনত হয়েছে। কয়েকদিন পর অবৈধ স্থাপনায় ভরে যাবে। তাই ইচ্ছেকৃতভাবেই ময়লা, আবর্জনা ও বর্জ পদার্থে পরিপূর্ণ করা হচ্ছে খালগুলো। যারমধ্যে মশার লাভাগুলো দেখে মনে হয় বরিশালের মৃতপ্রায় খালগুলোতে যতœসহকারে মশাদের চাষ করা হচ্ছে। এসব খাল পুণরুদ্ধার ও পরিস্কারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নগরবাসি।
মসজিদগুলোতেও মশার উৎপাত বেড়েছে দাবী করে মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান বলেন, মুসল্লীদের তারাবিহর নামাজ আদায় করতে কষ্ট হচ্ছে। হাফেজগণ তেলওয়াতের সময় মশা মুখে ঢুকে যাচ্ছে। বিগত সময়ে এতোটা মশার উৎপাত ছিলোনা।
এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, নগরীর খালগুলো পুণরুদ্ধারের জন্য মেয়রের দায়িত্বগ্রহণের পর পরই প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছিলো। অদ্যবর্ধি ওই প্রকল্প আলোর মুখ না দেখায় খালগুলো পুণরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তারপরেও সিটি মেয়রের উদ্যোগে নিজস্ব তহবিলে কয়েকটি খাল পরিস্কারসহ খনন করা হয়েছে। তবে তা যথেষ্ঠ নয় বলেও ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।










