মিরসরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট পৌর মেয়র রেজাউল করিম খোকনের চাঁদাবাজির প্রতিবাদে যাত্রী পরিবহন বন্ধ রেখেছে চট্টগ্রাম-মিরসরাই রুটের চয়েস ও উত্তরা বাস মালিক শ্রমিক সমিতি। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল থেকে বারৈয়ারহাট- শুভপুর- মাদারবাড়ি ও নিমতলী রুটের উত্তরা ও চয়েস পরিবহনের সকল যাত্রীবাহী বাস বন্ধ রাখা হয়েছে।
বারৈয়ারহাট পৌর বাস কাউন্টারে যাত্রীরা দাঁড়িয়ে ছিলেন বাসের অপেক্ষায়। কিন্তু কাউন্টারে কোনো বাস নেই। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। পুরুষ যাত্রীরা দূরপাল্লার গাড়িতে দৌড়ে গিয়ে ঠাসাঠাসি করে উঠতে পারলেও বৃদ্ধ নারী ও শিশুরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ গেছে বাড়তি টাকায় মাইক্রো, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল ভাড়া করে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক অলি আহমেদ জানান, চট্রগ্রাম- ধুম- শুভপুর রুটটি উত্তরা ও চয়েস বাস মালিক সমিতির নিয়োগকৃত লাইনম্যান পরিচালনা করতো। কিন্তু বারৈয়ারহাট পৌর মেয়র রেজাউল করিম খোকন তার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজের লাঠিয়াল বাহিনী নিয়োগ করে। লাইনের শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের টাকা, মাজারের টাকা ও পৌরসভার টোলসহ গাড়ি প্রতি ৮০ টাকা চাঁদাবাজি করছেন। এছাড়া তার লাঠিয়াল বাহিনী পরিবহন শ্রমিকদের উপর কারণে- অকারণে হামলা চালায় ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উক্ত রুটের মালিক শ্রমিক যৌথ সিদ্ধান্ত ক্রমে উত্তরা ও চয়েস বাস বন্ধ রেখেছে। মেয়রের লাঠিয়াল বাহিনী অপসারণ ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা গাড়ি চালাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন ।
চট্টগ্রাম-ধুম- শুভপুর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার জানান, বাসপ্রতি ৮০টাকা চাঁদাবাজির বাইরেও পৌর মেয়র খোকন প্রতি মাসে মালিক সমিতি থেকে ব্যক্তিগতভাবে মোটা অংকের সম্মানি ভাতা আদায় করেন। তার এসব অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা উত্তরা ও চয়েস সার্ভিস বন্ধ রেখেছি। গাড়ি বন্ধ রাখায় তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে ভয় ভীতি দেখাচ্ছেন ও জোর পূর্বক গাড়ি চালাতে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি জাহিদ হোসেন জানান, মালিক সমিতির পক্ষ থেকে লাইনম্যানদের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ এসেছিল। তাদের সবাইকে মিলমিশ করে দিয়েছি এর বাইরে আমরা কিছু জানি না। পৌর মেয়র রেজাউল করিম খোকনের সাথে মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।










