বরিশাল প্রতিনিধিঃ
পান থেকে চুন খসলেই দলের সদস্য পদ থেকে শুরু করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু উপজেলা সদরে প্রকাশ্যে থানার কর্মরত পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখমের পর গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে থাকা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে গত ছয়দিনেও রহস্যজনক কারণে নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা।
ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে অতীতে সামান্য কারনেও দলীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে। ঘটনাটি জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার। পুলিশ বাদি হয়ে দায়ের করা মামলার এজাহারে জানা গেছে, গত ৮ এপ্রিল ইফতারের পূর্ব মুহুর্তে আগৈলঝাড়া থানায় কর্মরত কনস্টেবল ভূদেব চন্দ্র বিশ^াস সমন ডিউটি করে মোটরসাইকেলযোগে থানায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে উপজেলা সদরের বিএইচপি একাডেমীর সামনে পৌঁছলে দেখতে পান রাস্তার ওপর মোটরসাইকেল রেখে বেশ কয়েকজন যুবক গল্প করছেন।
এসময় পুলিশ সদস্য ভূদেব তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের হর্ণ বাঁজালে ক্ষিপ্ত হয়ে গল্প করা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির পাইক তাকে (পুলিশ সদস্য) প্রকাশ্যে এলোপাথারী মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে ভূদেব চন্দ্র নিজেকে থানা পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পরেও জাকির পাইকের নেতৃত্বে তার সাথে থাকা বড় ভাই বাকাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম পাইক, একই গ্রামের যুবলীগ নেতা জিয়াউর রহমান ফরিহা, জহিরুল ইসলাম পাইক, মনির পাইক, সান্টু ফকির, রুহুল ফরিয়া, বকর পাইকসহ ৮/৯ জনে পুলিশ সদস্যকে এলোপাথারী মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেন।
থানার ওসি মো. গোলাম সরোয়ার বলেন, হামলার ঘটনায় ৮ এপ্রিল রাতেই আহত পুলিশ সদস্য ভূদেব চন্দ্র বিশ^াস বাদি হয়ে উল্লেখিতদের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির পাইক, যুবলীগ নেতা জিয়াউর রহমান ফরিয়া ও মনির পাইককে গ্রেপ্তার করে। পরেরদিন (৯ এপ্রিল) গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। পুলিশের ওপর হামলা মামলায় ওই তিনজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশ পেটানোর ঘটনার ছয়দিন পরেও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ব্যাপারে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রাজ্জাক মোবাইল ফোনে জনকণ্ঠকে বলেন, আমার বাবা বেশ কয়েকদিন থেকে অসুস্থ্য থাকায় তাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। যেকারণে বিষয়টি আমার জানা নেই। তিনি আরও বলেন, পুরো ঘটনাটির খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










