ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে ঝালকাঠির পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আসেন তাদের মা সুমাইয়া আক্তার। চেকপোস্টের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সামনে যমজ শিশু দুটিকে রেখে চলে যান তিনি। রবিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রেখে যাওয়ার পর থেকে ছোট শিশু দুটি গলা ফাটিয়ে কান্না শুরু করে। ওদের গায়ে তখন ভিশন জ্বর। জানা গেছে, বাবা-মায়ের কলহ আর বিচ্ছেদের ‘জাঁতাকলে পিষ্ট’ হতে চলেছে ১১ মাসের অবুঝ শিশু দুটির জীবন।
ঝালকাঠি সদর থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান আমাদের সময়কে জানান, শিশু দুটিকে রবিবার রাতেই ওদের দাদির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দাদা-দাদির কাছে বরিশালের বানারীপাড়ায় আছে।
জানা যায়, ২০১৯ সালের মে মাসে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে হয় ইমরান হোসেনের সঙ্গে। ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া থানায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ইমরানের বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়ায়। পারিবারিক কলহের কারণে গত মার্চ মাসে তাদের বিয়েবিচ্ছেদ হয়।
সুমাইয়া আক্তারের অভিযোগ, ইমরান
পেশায় পুলিশ হওয়ায় ডিভোর্সের পর তার সঙ্গে পেরে ওঠেননি। পরে স্থানীয়ভাবে এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়- শিশু দুটি সাবালক হওয়ার আগ পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকবে। এবং ভরণপোষণের জন্য ইমরান প্রতিমাসে তিন হাজার করে টাকা দেবে। কিন্তু সন্তানদের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার জন্য কোনো খরচ দেন না ইমরান।
এদিকে কনস্টেবল ইমরানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সুমাইয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রতিমাসে দুই ছেলের ভরণপোষণের জন্য তিন হাজার করে টাকা সুমাইয়াকে দিয়ে আসছি।’
সুমাইয়া আক্তার বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে টাইফয়েড জ্বরে ভুগছে শিশু আরাফ ও আয়ান। ওদের ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে রবিবার সকালে চিকিৎসক বেশ কিছু টেস্ট দেন। এই টাকা জোগাড় করা আমার সাধ্যের বাইরে ছিল। সন্তানদের চিকিৎসার টাকা চেয়ে ইমরানকে ফোন দিলে টাকা পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করে সে বলে, ‘আমি প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে আছি। এখন টাকা দিতে পারব না।’ সেই ক্ষোভে যমজ দুই ছেলেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে রেখে আসি।
এদিকে সন্তানদের রেখে ঝালকাঠি সদর উপজেলার খাওক্ষির গ্রামের বাড়িতে চলে যান সুমাইয়া। বিকালে শিশু দুটিকে ঝালকাঠি সদর থানায় নিয়ে নারী ও শিশু হেল্পডেস্কে দায়িত্বরত নারী কনস্টেবলের কাছে রাখা হয়। তখন ওদের দুজনের শরীরে বেশ জ্বর ছিল। শিশু দুটি অনবরত কান্না করতে থাকে। পরে সদর থানা থেকে ইমরানকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে ইমরানের মা রাত ১০টায় এসে শিশু দুটিকে নিয়ে যান।










