ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠি সদর উপজেলায় বিআরডিবি’র মাঠ সংগঠক ইয়াসমিন আক্তার ১৪টি পল্লি উন্নয়ন মহিলা সমিতির ১৩৫জন সুবিধাভোগী সদস্যদের কাছ থেকে ৬২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৭০৭টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছেন। এর মধ্যে ৭২ জনের চেক জালিয়াতি করে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলে নিয়েছে এবং অন্যদের সমিতি ভুক্ত সদস্যদের কিস্তি ও এ্যাকাউন্টের টাকা তুলে নিয়ে আত্ম গোপন করেছেন। তার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি থানায় সদর উপজেলা পল্লি উন্নয়ন অফিসার মিথুন মিস্ত্রী বাদী হয়ে ঝালকাঠি থানায় দু’দিন পূর্বে (১০/৮/২০২৩) মামলা দায়ের করেছেন মামলা নং ০৭।
ঝালকাঠি থানার এসআই মোঃ আরেফিন ইসলাম মামলার তদন্ত কাজ শুরু করেছন এবং রবিবার সদর উপজেলার বিআরডিবি কর্মকর্তাদের এ বিষয় তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ইয়সমিন আক্তার বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার হাবিবুল্লার কন্যা। ২০১৭ সালে ১৫ নভেম্বর ঝালকাঠি সদর উপজেলা পল্লি উন্নয়ন অফিসে যোগদান করেন এবং ২০২৩ সালে ৩১ জুলাই থেকে সে অফিসের না আসায় অফিসের লোকজন তার মোবাইল নম্বর ০১৮৭৮৪৬৮২১১/০১৭১৪৭০০১৫৩ নম্বরে ফোন করে মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় তার বাসায় যায়।
কিন্তু তার বাসাটি তালাবদ্ধ থাকে। বিআরডিবি’র কর্মকর্তারা বারোচালার ইয়াসমিন আক্তারের স্বামী আঃ আলিম সুমনের দোকানে গিয়েও তার দোকান বন্ধ পায় এবং লোক মুখে শুনছে ইতোপূর্বে সে দোকানের মালামাল নিয়ে দোকান ছেড়ে দিয়েছে। আব্দুল আলীম সুমনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কবির হাট উপজেলায়।
ঝালকাঠির সদর উপজেলার বিআরডিবি পল্লি উন্নয়ন সমবায় সমিতি উত্তর বৈদারাপুর সদস্যদের হিসাব থেকে ৫ লক্ষ ২০ হাজার, চাঁদপুরা মহিলা সমিতি থেকে ৪ লক্ষ ২০ হাজার, বেরপাশা মহিলা সমিতির সদস্যদের হিসাব থেকে ৭০ হাজার টাকা, উত্তর নৈকাঠী মহিলা সমিতি থেকে ৩ লক্ষ ৮০ হাজর, সারেঙ্গল মহিলা সমিতি ২ লক্ষ ৪০ হাজর, রুপসিয়া মাহিলা সমিতি থেকে ৩৩ হাজর ৬শ, প্রতাপ মহল মহিলা সমিতির ১০ লক্ষ ৮৫ হাজর টাকা, পোনাবালিয়া মহিলা সমিরি থেকে ৫লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা, হাজরাগাতি মহিলা সমিতি থেকে ৬ লক্ষ ৬০ হাজার, দেউলকাঠী পশ্চিম বিন্নাপাড়া মহিলা সমবায় সমিতি থেকে ২ লক্ষ টাকা, উত্তর বৈদারাপুর মহিলা সমিতি থেকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা, উত্তর গাবখান মহিলা সমিতি থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, দক্ষিন গাবখান মহিলা সমিতি থেকে ৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ও পশ্চিম গাবখান মহিলা সমিতি থেকে ৫ লক্ষ ৪০ হাজার ও ওস্তাখান গাবখান মহিলা সমিতি থেকে ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে অনেকের কাছ থেকে ধার হিসেবে নেয়া টাকাসহ প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আসছে বলে বিআরডিবি পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি পরিতোষ চন্দ্র দাশ জানিয়েছেন।










