ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পৌরএলাকার ৩নং ওয়ার্ডের শীতলপাড়া গ্রামের মানবেতর জীবনযাপন করা স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে আকস্মিক উপস্থিত হয়ে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা শিকদার ঘর নির্মাণ, বিধবা ভাতা প্রদানসহ সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
৩১ আগষ্ট (মঙ্গলবার) সকাল ৯টায় নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা শিকদার নলছিটি পৌর এলাকার শীতলপাড়া গ্রামের বিধবা নাসিমার বাড়িতে যান। নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চরম মানবেতর জীবনযাপন করা স্কুল ছাত্রী জামিলা ও তার বিধবা মা নাসিমা বেগমের কষ্টের কথা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ইউএনও রুম্পা শিকদার দীর্ঘ সময় ধরে অসহায় পরিবারের কথা শুনে বিধবা নাসিমা বেগমকে বিধবা ভাতা প্রদান, জরুরি ভিত্তিতে থাকার জন্য ঘর নির্মাণের ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
নলছিটি পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের শীতলপাড়া গ্রামের মৃত জব্বার হাওলাদারের বিধবা স্ত্রী নাসিমা ও তার মেয়ে নলছিটি গার্লস স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী জামিলা ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরে মাটির উপরে বসবাস করে আসছে। বিদ্যুৎ বিল দিতে না পারায় ২০১৫ সনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
অর্থাভাবে জব্বার হাওলাদার বিনা চিকিৎসায় এক বছর পূর্বে মারা যায়। চরম মানবেতর জীবনযাপনের সচিত্র প্রতিবেদন সম্প্রতি নলছিটি উপজেলার বিশিষ্ট সাংবাদিক মুঃ মনিরুজ্জামান মুনির তার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে প্রচার করলে অনেকেই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
বিষয়টি শিক্ষাবার্তার বার্তাকক্ষ সম্পাদক ও নলছিটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিন-ই-আমিন মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুম্পা সিকদার কে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি জানেন বলে জানান।
অসহায় ঐ ছাত্রীটির বাড়িতে যাবেন বলে আশ্বাস দেন। ৩১ আগষ্ট তিনি দীর্ঘ সময় পায়ে হেটে ছাত্রী জামিলার বাড়ি যান।
বিষয়টি অবহিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা শিকদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই পরিবারকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য বিত্তবানদের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ইউএনও বিধবা নাসিমা বেগমকে জরুরি ভিত্তিতে বিধবা ভাতা প্রদানসহ সরকারি সকল প্রকার সহায়তা দেয়া হবে বলে জানান। এছাড়াও ব্যাংক কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান অরবিটও ঘর নির্মাণে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।










