ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১৭জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ৩৫ জন। আহতদের ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ও গুরতর কয়েকজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন নারী, ৬জন পুরুষ ও ৩ জন শিশুর রয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জনের লাশ সনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের ডিআইজির পক্ষ থেকে দাফন ও সৎকারের জন্য এক লক্ষ টাকা দেয়ার ঘোষনা দেন।
শনিবার সকাল ১০ টায় ঝালকাঠি সদর উপজেলায় ঝালকাঠি-ভান্ডারিয়া-বরিশাল- আঞ্চলিক মহাসড়কে গাবখান ধানসিড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সামনে বাসার স্মৃতি পরিবহন গাড়ীটি চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি পুকুরে পড়ে ডুবে যায়। এ সময় নারী ও শিশুসহ ১৭জন নিহত হয়েছে, ৩৫ জন আহত হলেও বেঁচে পালিয়ে যান বাসের ড্রাইভার, হেলপার ও সুপারভাইজার। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলা থেকে বরিশাল যাচ্ছিল।
গাড়ীটিতে ৬৫-৭০ জন যাত্রী ছিলো। চালক গাড়ি চালানো সময় সুপারভাইজার যাত্রীদের সাথে তর্ক করছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের ০৫টি ইউনিট, র্যাব ও পুলিশের উদ্ধার কর্মীরা প্রায় চার ঘন্টা অভিযান চালিয়ে ডুবান্ত বাসটি রাস্তায় তুলি নিয়ে আসেন। এ সময় বাসের মধ্যে থেকে মোঃ আল আমীন (২৬) নামে ফায়ার ফাইটার উদ্ধারকারী আহত হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে তারিক (৫৫), একই এলাকার আঃ ছালাম মোল্লা (৫০), শাহীন মোল্লা (৩০), আব্দুল্লাহ (৭) পূর্ব ভান্ডারিয়া এলাকার সুমাইয়া (৫), রহিমা(৬০), আবুল কালাম হাওলাদার(৫০), মেহেন্দীগঞ্জের রিপা মানি(৩) একই পরিবারে আইরিন(২২) রাজপুর উপজেলার নয়ন(১৬), খুশবু(১৯), খাদিজা(৫৫), ভান্ডারিয়ার রাবেয়া(৬০) সাহিবাহ আক্তার(৪৫), জাহাঙ্গির খান(২৮), কাঠালিয়ার সালাম আক্তার মিতা(৪০) কে উদ্ধার করে। এদের মধ্যে ১৬ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সন্ধ্যা ৬টায় মরদেহ পুলিশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় আল আমিন নামক এক ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ঘটনাস্থল বরিশাল বিভাগী কমিশনার শওকত আলী ও বরিশালের পুলিশের ডিআইজি মোঃ আখতারুজ্জামান পরিদর্শন করেন। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মামুন শিবলীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এ কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
ঝালকাঠি থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন সরকার জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পুকুরে উল্টে পরে এবং এ কারণে অনেক যাত্রী বাস থেকে সহজে উঠতে পারে নাই তারা পানিতে ডুবে মারা যায়। ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কর্মী আল আমিন জানিয়েছেন তিনি বেশ কয়েকজনকে ডুবন্ত বাসের জানালা থেকে তুলে এনেছেন এবং এক পর্যায়ে বার বার ডুব দেয়ার কারণে সে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পরে। পবর্তীতে ফায়ার ফাইটারকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বাসে পরিবারের সাথে আসছিলেন যাত্রী আজাদ হোসনে তিনি জানান বাস চালক সে সঠিকভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন না বার বার হেলপার কন্ট্রাকটার ও যাত্রিদের সাথে ভাড়া নিয়ে সাইটটক করছিলেন। বাসটি রাস্তার পাশে টার্ন করে চলে আসার মুহুর্তে সে দ্রæত ডানে স্টিয়ারিং গুরিয়ে দিলে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পুকুরে পরে।
এ খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ফারাহ্্ গুল নিঝুম ঘটনাস্থলে যান এবং উদ্ধার কাজ তদারকি করেন। ফায়ার সার্ভিসের একাদিক পাম্প মেশিন বসিয়ে পানি অপসারণ করে লাশ উদ্ধারের নির্দেশনা দেন। পরে খবর পেয়ে বিভাগী কমিশনার মোঃ শওকত আলী, ডিআইজি মোঃ আখতারুজ্জামান, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগী পরিচালক ও ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম জহিরুল ইসলাম ডাক্তারদের নিয়ে আহত রোগীদের চিকিৎসার তত্বাবধান করেছেন। এই ঘটনায় ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামুন শিভলীকে প্রধান করে ৫ সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ৩ দিনে মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করবে।
ঝালকাঠি পুলিশি সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল জানান, পুলিশ বিভাগের ডিআইজি নিহতদের দাফন ও সৎকারের জন্য ১ লক্ষ টাকা প্রদানের ঘোষনা দিয়েছেন এবং নিহত পরিবারে কাছে তা পৌছে দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা করার জন্য কেহ আগ্রহী নন। তবে, নিহতদের পরিবারে পক্ষ থেকে কেহ কোন অভিযোগ না করলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন। এই ঘটনার চালক , কনট্রাক্টর ও হেলপারদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী জানান এই মুহুর্তে এই ঘটনা নিহতদের জন্য সরকারে পক্ষ থেকে ক্ষতিপুরনের সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে, যে সকল জেলার ব্যক্তি বর্গ এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন সে সকল জেলার জেলা প্রশাসকরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল সহ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।










