খেলা ডেস্কঃ সীমিত ওভারের জন্য নতুন কোচ হিসেবে ম্যাথু মটকে বেছে নিল ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের নিয়ে প্রায় ‘অজেয়’ এক দল গড়ে তোলা মটকেই সাদা বলের দায়িত্ব দিয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মটের নিয়োগের কথা জানিয়েছে তারা। টেস্ট দলের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মতোই মটের সঙ্গে চার বছরের চুক্তি তাদের।
২০১৫ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের দলের দায়িত্বপালন করেছেন মট। সাত বছরে তাঁর অধীনে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে প্রায় সবই—পরপর দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও অ্যাশেজ। ছেলে বা মেয়েদের ওয়ানডেতে টানা জয়ের রেকর্ডও (২৬টি) এসেছে মটের সময়েই।
অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের দায়িত্ব নেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচিং করিয়েছেন মট। ২০০৯ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসকে নিয়ে জিতেছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি। ২০১৩ সালে গ্ল্যামরগানের হয়ে এক দিনের টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছিলেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। ইসিবি জানিয়েছে, সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় কোচ নির্বাচন কমিটির কাছে সবচেয়ে যোগ্য মনে হয়েছে মটকেই। সম্ভাব্য কোচের তালিকায় ছিলেন গ্যারি কারস্টেন, সাইমন ক্যাটিচ, পল কলিংউডরাও।
Two T20 World Cups, three Ashes wins, one ODI World Cup.
In between that, thousands of throwdowns and countless memories.
Congratulations Motty on your appointment as coach of England Men’s white-ball sides 👏 pic.twitter.com/DE7R6AlWpJ
— Australian Women's Cricket Team 🏏 (@AusWomenCricket) May 18, 2022
মটের নিয়োগের ব্যাপারে ইসিবির ছেলেদের ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি বলেছেন, ‘ম্যাথু মটকে আমাদের ছেলেদের সাদা বলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দিতে পারাটা আমাদের জন্য সম্মানের। বিচিত্র অভিজ্ঞতা আছে তার, অসাধারণ এক কোচিং–যাত্রা। এরই পথে সে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার এ পর্যায়ে হাজির হয়েছে। আমাদের সাদা বলের জন্য একেবারে উপযুক্ত ব্যক্তি সে।’
কির আশা, অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের দলের সাফল্যের অনুবাদ তাঁদের দলেও করবেন মট, ‘গত কয়েক বছরে শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেটেও কাজ করার অভিজ্ঞতাও আছে তার। এমন একজনকে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, অস্ট্রেলীয় মেয়েদের নিয়ে যে সাফল্য পেয়েছে সে, আমাদের ছেলেদের সাদা বলের দলের ক্ষেত্রেও সেটিই চাওয়া হবে।’
দায়িত্ব পাওয়ার পর মট বলেছেন, ‘ইংল্যান্ডের সীমিত ওভারের দায়িত্ব নিতে পেরে খুশি আমি। অস্ট্রেলীয় হলেও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক। আমার খুব কাছের কয়েকজন বন্ধু থাকে এখানে। স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও ইংল্যান্ডে কোচ ও খেলোয়াড় হিসেবে অনেক সময় কাটিয়েছি আমি।’

এখানে ওয়ানডে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে কাজ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি তিনি, ‘এ পদটা যখন ফাঁকা হলো, এউইন মরগান ও রব কির সঙ্গে এমন সফল একটা দলের হয়ে কাজ করার দিকে আকৃষ্ট হয়েছি আমি। মরগান ও কিকে আমার দারুণ ক্রিকেট মস্তিষ্কের মানুষ মনে হয়।’
আগামী মাসে আমস্টারডামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হবে মটের অধীনে ইংল্যান্ডের প্রথম সিরিজ। টেস্ট দলের কোচ হিসেবে এর আগেই ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে নিয়োগ দিয়েছে ইংল্যান্ড।
খেলোয়াড় হিসেবে কুইন্সল্যান্ড ও ভিক্টোরিয়াতে ছিলেন মট। ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের কথাও আলাদা করে বলেছেন তিনি, ‘এ দায়িত্ব নেওয়ার রোমাঞ্চের মধ্যে আমার বন্ধু অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের এমন চলে যাওয়া মেনে নেওয়ার চেষ্টা করতে হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে অনেকের মতোই। সামনের দিনগুলোতে তার দারুণ পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থন প্রয়োজন হবে। আপাতত এ পদে আরও কিছু বলার আগে আমি তার চলে যাওয়ার বিশাল ক্ষতি মানিয়ে নিতে একটু সময় চাইছি।’
সূত্রঃ প্রথম আলো।












