অনলাইন ডেস্কঃ যশোরে বিয়ের দশ বছর পর একসাথে চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন শারমিন আক্তার শম্পা (২৬) নামে এক গৃহবধূ। গত ১৮ জুলাই সোমবার রাত ১২টায় যশোর শহরের কুইন্স হাসপিটালে সিজারের মাধ্যমে এই চার সন্তানের জন্ম হয়। এদের মধ্যে দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে। একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম হওয়ায় শম্পার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। প্রসূতি শম্পা যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী কুদ্দুস মোল্লার স্ত্রী।
শম্পা জানান, ২০১২ সালের ২৬ জুলাই কুদ্দুস মোল্লার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। জরায়ুর সমস্যার কারণে দশ বছর ধরে তিনি সন্তান ধারণ করতে পারছিলেন না। সর্বশেষ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকায় অন্তঃসত্ত্বা হন তিনি। ইতিপূর্বে আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে তারা চার সন্তান বিষয়টি নিশ্চিত হন। এই খবর জেনেই চার মাস আগে কাজের সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান তার স্বামী কুদ্দুস মোল্লা।
শম্পা আরো জানান, আগামী ১৯ আগস্ট সন্তান প্রসবের দিন ছিলো। কিন্তু প্রসব বেদনা উঠায় সোমবার বিকেলে কুইন্স হসপিটালে ভর্তি হন তিনি। এরপর রাতে সিজারের মাধ্যমে ডা. প্রতিভা ঘরাই’র তত্ত্বাবধানে চার সন্তানের জন্ম হয়। এদের মধ্যে দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে সন্তান। শম্পা ও চার শিশু বর্তমানে সুস্থ আছেন।
শম্পা আরও জানান, তার স্বামীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। তিনি খুব খুশি। চার সন্তানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
কুইন্স হাসপাতালের ডা. প্রতিভা ঘরাই বলেন, ‘নবজাতকদের স্বাভাবিক ওজন হলো আড়াই কেজি করে। কিন্তু এই চারজনের মধ্যে একজনের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ায় তাকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। ওই শিশুটি দ্রুত সুস্থতা লাভ করবে বলে আমরা আশাবাদী।’
বসুন্দিরা ইউনিয়নের এক নারী ইউপি সদস্য বলেন, শম্পা তার সম্পর্কে ভাগ্নে বউ। তাদের বংশের মধ্যে কারো জমজ সন্তান নেই। এমনকি তার ইউনিয়নেও ইতিপূর্বে কারো একসাথে চার সন্তানের জন্ম হয়নি। ফলে তারা খুব খুশি।
যশোর কুইন্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমাদের হসপিটালে ইতিপূর্বেও এক মা চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সেই সন্তানেরা সকলেই সুস্থ আছে। আজ আরেক মা একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দিলেন। একটি সন্তান ওজন কম হওয়ায় কিছুটা অসুস্থ। তাকে পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। দ্রুতই শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠবে। এছাড়া এই মায়ের সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আমি নিজেই নজরদারি করছি’। সূত্রঃ বাংলা ভিশন।










