আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর নতুন রাজা হয়েছেন প্রিন্স চার্লস ফিলিপ আর্থার জর্জ। তবে এখন আর তিনি প্রিন্স নেই, তিনি এখন কিং। রানির মৃত্যুর পর রাজ সিংহাসনের অধিকারী হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ১৪টি কমনওয়েলথ দেশেরও রাজা তিনি।
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দেশটির নতুন রাজার আগমন নিয়ে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন নেতারা বিভিন্ন কিছু ভাবছেন। তিনি কেমন হবেন, বৈশিষ্ট্য কেমন হবে? আচরণ কেমন ইত্যাদি। মুসলিম বিশ্বের শাসকরাও ভাবছেন তাকে নিয়ে।
তাকে নিয়ে যে কৌতুহল রয়েছে সেটা মেটাতে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম আল জাজিরা। সেখানে তারা জানিয়েছে- নতুন এই ব্রিটিশ রাজা বিভিন্ন সময় বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে ইসলামের প্রশংসা করেছেন। শুধু তাই নয়, আরবী ভাষাতেও রয়েছে তার দক্ষতা।

রবার্ট জবসনের লেখা ‘চার্লস অ্যাট সেভেন্টি: থটস, হোপস অ্যান্ড ড্রিমস’ বইতে লিখেছেন, তিনি পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং মুসলিম নেতাদের কাছে লেখা চিঠিতে আরবি ভাষায় স্বাক্ষর করেন। এছাড়া গত এপ্রিলে চার্লস বলেছিলেন, রমজানের চেতনা থেকে সবাই শিক্ষা নিতে পারেন
ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১০ সালে অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজে একটি বক্তৃতায় চার্লস ফিলিপ আর্থার বলেছিলেন, প্রকৃতির প্রাচুর্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলো স্বেচ্ছাচারী বা অবাধ কোনো সীমা নয়, এগুলো সৃষ্টিকর্তার দ্বারা আরোপিত সীমা। কোরআন সম্পর্কে আমার উপলব্ধি সঠিক হলে, মুসলমানদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা যেন সীমা লঙ্ঘন না করেন।
১৯৯৩ সালে অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজে দেওয়া বহুল আলোচিত এক বক্তৃতায় রাজা বলেছিলেন, ইসলামের প্রকৃতি সম্পর্কে পশ্চিমে যদি অনেক ভুল বোঝাবুঝি থাকে, তবে ইসলামিক বিশ্বের কাছে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি এবং সভ্যতার ঋণ সম্পর্কেও (আমাদের) অনেক অজ্ঞতা রয়েছে। এটি একটি ব্যর্থতা বলেই আমি মনে করি। ইতিহাস থেকে যা আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।
রানি দ্বিতীয় এলিজাথের মৃত্যুর পর গত শনিবার ব্রিটেনের নতুন রাজা হয়েছেন প্রিন্স চার্লস। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, রানির মৃত্যুর পর রাজা হন সাবেক এই প্রিন্স অব ওয়েলস। নতুন এই ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস নামে পরিচিত হবেন।












