ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির সদর উপজেলার পূর্ব গুয়াটনে শতাধিক বাবুই পাখির ছানা হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৯ জুন) জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি চৌকস টিম অভিযান চালিয়ে পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলা এলাকা থেকে তাকে আটক করে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের গুয়াটন গ্রামের মৃত মোসলেম আলী ফকিরের ছেলে মো. মোবারক ফকির (৬৫)।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ জুন পূর্ব গুয়াটন এলাকায় একটি তালগাছ কাটা হয়। উক্ত তালগাছের ডগায় ঝুলানো ছিল শতাধিক বাবুই পাখির বাসা, যেখানে ডিম ও ছানা ছিল। গাছ কাটার ফলে বাসাগুলো পানিতে পড়ে যায়। এ সময় প্রাপ্তবয়স্ক কিছু পাখি উড়ে গেলেও শতাধিক ছানা মারা যায় এবং ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এ গাছটি বাবুই পাখির প্রজনন ও আশ্রয়স্থল ছিল। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।
ঘটনার দুই দিন পর রবিবার (২৯ জুন) স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় রুজু করা হয়, যার নম্বর ২২। এতে মোবারক আলী, মিজানুর রহমান ও ফারুক হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়েও আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার POR নং ০১/ঝাল/২০২৪-২৫।
ঝালকাঠি জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে মামলা দায়েরের পর বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মহোদয়ের নির্দেশনা ও ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল ইসলাম পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের টিম মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে প্রধান আসামীকে গ্রেপ্তার করে। আসামীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল ইসলাম জানান, ‘পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’










