নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশালঃ বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ২নং লতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান নেহাল’র বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইউপি সদস্য মোঃ তাজুল ইসলাম। আজ সোমবার (৮ নভেম্বর) বেলা ১২ টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহানারা আবদুল্লাহ স্মৃতি মিলনায়তনে কাজীর হাট থানার ২নং লতা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ তাজুল ইসলাম তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, সরকারী নিয়মানুযায়ী জন প্রতি জন্ম নিবন্ধন বাবদ ৫২ টাকা নেয়ার নিয়ম থাকলেও প্রতি জন্ম নিবন্ধন থেকে নিন্মে ৫শ থেকে দেড় দু’হাজার টাকা নেয়া হয় । এ খাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান নেহাল।
সম্মানী ভাতায় দুর্নীতিঃ সরকারী নিয়মে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রতিমাসে একজন ইউপি সদস্যর সম্মানী ভাতা ৪ হাজার ৪শ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও সাড়ে চার বছরে মোট ১২ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। অথচ জন প্রতি ইউপি সদস্য ইউনিয়ন পরিষদে মোট ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬শ টাকা সম্মানী ভাতা পাওনা রয়েছে। আমাদের সম্মানী ভাতা পরিশোধ না করে প্রত্যেক বছর বাজেট মিটিংয়ে ভাতার টাকা পরিশোধ দেখানো হয়েছে। যা আইন বহির্ভ‚ত। সম্মানী ভাতার সব টাকা চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করেছে।
ত্রাণ বিতরণে অনিয়মঃ মহামারী করোনার সময় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় মোট ৪৩৯ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ২৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্ধ হয়। তা ইউনিয়নে কোথায় কিভাবে বরাদ্দ বা বিতরণ হয়েছে তার কোন হদিস নেই। ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস ২০২১ উপলক্ষে গরীবদের মাঝে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন জোনাল অফিস বরিশাল ত্রাণ সহায়তা অনেক মানুষই পায়নি।
এলজি এসপি প্রকল্পে দুর্নীতিঃ এলজি এসপির টাকা দিয়ে বিশেষ প্রয়োজনে জনস্বার্থে টিউবয়েল দেওয়ার নিয়ম আছে, কিন্ত ব্যক্তি স্বার্থে টিউবয়েল দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান এলজি এসপির টাকা দিয়ে রাস্তা কালভার্ট, পুল নির্মাণ কার্যক্রমে ব্যয় না করে বরাদ্ধের ৯০% টাকা ব্যক্তির নামে টিউবয়েল দিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নন ওয়েজ প্রকল্প ঃ এই প্রকল্পের টাকা কোথায় কিভাবে ব্যয় হয়েছে তা কেউ জানে না।
এছাড়াও বিজিএফ চালের কার্ড প্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে আদায়। একই পরিবারে একাধিক কার্ড বিতরণ করেছে। ৪০ দিনের কার্মসূচি প্রকল্পে একাউন্ট হোল্ডার’র টাকা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ২ বছর মেয়াদী ভিজিডি কার্ডেও প্রতি কার্ড বাবদ ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে আতৎসত। বয়স্ক,প্রতিবন্ধ ও বিধবা ভাতায় কার্ড প্রতি বাবদ ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তিনি।
এ সব অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে ইউপি সদস্য মোঃ তাজুল ইসলাম গত ৬ই সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং গত ১৭ই আগস্ট বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কোন প্রতিকার পায়নি বলে ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ২নং লতা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ স্বপন, ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও আ’লীগের ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ আলমগীর কাজী, ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ আলী হোসেন বিশ্বাস ও ৭-৮-৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোসাঃ হেনা বেগম।
দুর্নীতির বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান নেহাল এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে বলেন, সামনে নির্বাচন। তাই একটি পক্ষ মিলিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রচারণা করছে। আর আমি যদি দুর্নীতি করি তাহলে ইউপি সদস্যরাও তো তাতে জড়িত রয়েছে। সবই ষড়যন্ত্র।
তিনি আরো বলেন, সংবাদ সম্মেলন করেছে সেই তাজুল সহ বেশ কয়েকজন আছে ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসায়ী। সে কি ঠিকমত সংবাদ সম্মেলনে কাগজ পড়তে পেরেছে?। তাছাড়া ইউপি সদস্য তাজুল যদি এতই ভাল মানুষ হয়ে থাকে বেশ কিছুদিন আগে তাকে স্থানীয় জনতা মারধর করে পুলিশে দিয়েছিল কেন?।










